সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: রাত নামলেই যেন অন্য এক শহর। অন্ধকারের ফাঁকে নিঃশব্দে দখল নিচ্ছে এক অদৃশ্য বাহিনী। নাম তার ইঁদুর। আর সেই ইঁদুরের আতঙ্কেই এখন দিশেহারা ধূপগুড়ি। অলিগলি থেকে বাজার, সরকারি দপ্তরের টেবিল থেকে আলমারি, কোথাও রেহাই নেই। চোখের আড়াল হলেই শুরু হচ্ছে তাণ্ডব। গুরুত্বপূর্ণ নথি কেটে ছিন্নভিন্ন, দোকানের মালপত্র নষ্ট, এমনকী অফিসের খাবার পর্যন্ত নিরাপদ নয়। শহরবাসীর কথায়, এমন দাপট আগে কখনও দেখা যায়নি।
সম্প্রতি ধূপগুড়ির বিডিও অফিসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এক আধিকারিকের জরুরি নথি মুহূর্তের মধ্যে কেটে নষ্ট করে দেয় ইঁদুরের দল। দপ্তরের কর্মীরা জানান, কাগজপত্র এখন আর টেবিলে ফেলে রাখা যাচ্ছে না। আলমারির ভিতরেও ভরসা নেই। কীটনাশক ব্যবহার করেও তেমন সুফল মিলছে না।
একই ছবি ধূপগুড়ি থানাতেও। রাতে ফাইল রেখে সকালে এসে দেখা যাচ্ছে কাগজ কেটে তছনছ। এক কর্মীর কথায়, কখন কোথা থেকে এসে পড়ে বোঝাই যায় না। এখন সব কিছুই বাঁচিয়ে রাখতে লড়াই করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অবস্থা আরও শোচনীয়।
কাপড় ব্যবসায়ী রতন সরকার বলেন, দোকান খুলে প্রতিদিন নতুন করে ক্ষতির হিসাব করতে হচ্ছে। কয়েক মাস আগেও এমন ছিল না। এখন হঠাৎ করে ইঁদুরের উপদ্রব এত বেড়েছে যে সামলানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। পাশের দোকানের মালিক সুজিত পাল বলেন, যতই সাবধানে রাখি, কিছু না কিছু কেটে দিচ্ছে। অনেক সময় বুঝতেই পারছি না ক্ষতি কোথা থেকে হচ্ছে।
শহরের বাসিন্দাদের একাংশ এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন অপরিষ্কার পরিবেশ ও নিকাশি সমস্যাকে। স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল দাস বলেন, ড্রেন পরিষ্কার হয় না, ময়লা জমে থাকে। এই কারণেই ইঁদুরের সংখ্যা বাড়ছে। গৃহবধূ মিতা রায় জানান, রাতে ঘুমোতেও ভয় করছে। মশারির ভিতরেও ঢুকে পড়ছে।
ক্রমশ বেড়ে চলা ইঁদুরের এই উপদ্রবে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ধূপগুড়িতে, কবে মিলবে রেহাই? ধূপগুড়ি পুরসভার প্রাক্তন প্রশাসনিক বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কৃষিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।