সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: বিদায়ী মন্ত্রী তাজমুল হোসেন, তাঁর ভাই সহ অনুগামীদের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের হয়ে ভোট করানোর অভিযোগে সরগরম হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা এলাকা।
এবার ভোটের দু’দিন আগে বিরিয়ানি ভর্তি প্যাকেটের মধ্যে পাঁচশো টাকা করে বিতরণের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য মর্জিনা খাতুন। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাজমুল। নির্বাচনের দিন হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভায় তাজমুলের গ্রাম বাংরুয়ায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, মন্ত্রীর লোকেরা কংগ্রেসের হয়ে ভোট করাচ্ছেন। তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর করেছেন তাঁরা। আক্রমণের মুখে পড়েন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা মকরম আলি ও জেলা পরিষদের সদস্য মর্জিনা খাতুন। যদিও মন্ত্রীর ছেলে ইমরান আলি দাবি করেছিলেন, মকরম বহিরাগত হওয়া সত্ত্বেও বাংরুয়ায় ২০১ ও ২০২ নম্বর বুথে এসে মানুষকে ভয় দেখান। অশান্তি লাগানোর চেষ্টাও করেছিলেন। পুলিশের কাছে মিথ্যা অভিযোগের পর সাধারণ মানুষকে লাঠিচার্জ করা হয়। একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
মর্জিনা বলেন, মন্ত্রী তাজমুল ও তাঁর ভাই জম্মু রহমান কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক আলমের হয়ে ভোট করিয়েছেন। ফোন করে অনুগামীদেরও কংগ্রেসের হয়ে ভোট করানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তাজমুল। এমনকি ভোটের দু’দিন আগে গ্রামে বিরিয়ানি ভর্তি প্যাকেটের সঙ্গে পাঁচশো টাকা করে বিতরণ করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগপত্রে কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক লিখেছেন, তাঁর কর্মীদের পুলিশ অযথা বিরক্ত করছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মন্ত্রীর ভাই জম্মু। কোনো অভিযোগ ছাড়াই বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। মর্জিনার কথায়, এতেই স্পষ্ট, তাজমুলরা কংগ্রেসের হয়ে ভোট করেছেন। ভোটে গণ্ডগোলের সময়খুন হয়ে যেতাম।
তাজমুল বলছেন, আমাকে প্রচারে ডাকা হয়নি। একদিন শুধুমাত্র ফোন করেছিল। আমার ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না আমরা কংগ্রেসের হয়ে ভোট করিয়েছি। তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমানের অভিযোগ, তাজমুল স্বীকার করছেন তিনি বাড়িতে বসে থেকেছেন। দলের হয়ে ভোট করাননি। তিনি এবং তাঁর ভাই দলের ক্ষতি করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরো বিষয়টি জানাব।