জোড়া বাস ভাড়া করে আসেন ভোট দিতে, ‘জবাব’ দিয়ে পাঞ্জাব ফিরলেন পরিযায়ীরা
বর্তমান | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, চোপড়া: ‘প্রতিবাদ’ জানানোর ভোট দেওয়া শেষ। এবার ফের পেটের টানে রুটিরুজির লড়াইয়ে ফেরা।উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া ব্লকের কয়েকশো পরিযায়ী শ্রমিক রবিবার ফের পাড়ি দিলেন সুদূর পাঞ্জাবে। রবিবার লালবাজার এলাকায় দেখা গেল ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের ভিড়। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে আসা এই শ্রমিকদের চোখেমুখে এখন তৃপ্তি। কারণ, এসআইআর পর্বে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছিলেন তাঁরা। উদগ্রীব ছিলেন ভোট দিয়ে এই হয়রানির জবাব দিতে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য দু’টি বাস ভাড়া করে পঞ্জাব থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন প্রায় ১২০ জন শ্রমিক। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, পঞ্জাব থেকে চোপড়া আসতে এবং ফিরে যেতে এই দু’টি বাসের জন্য মোট ৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত মঙ্গলবার তাঁরা এলাকায় এসে পৌঁছেছিলেন এবং বৃহস্পতিবার নিজের নিজের বুথে গিয়ে ভোট দেন।
দীর্ঘ ৪৬ ঘণ্টার বাসযাত্রা করতে হলেও শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার জন্যই তাঁদের এই ঘরে ফেরা। কেন ট্রেনের পরিবর্তে এত টাকা দিয়ে বাস ভাড়া করতে হল?
শ্রমিক কারিফুল বললেন, একসঙ্গে এতজনের ট্রেনের টিকিট পাওয়া অসম্ভব। তাই ভোট যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য বাস ভাড়া করেই আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শ্রমিকদের ঠিকাদার জাকির হোসেন বলেন, মূলত এসআইআর আতঙ্কের কারণেই সবাইকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছিলাম। এবার ভোট দেওয়া জরুরি ছিল। এখন আবার কাজে ফেরার পালা।
শ্রমিকদের এই ঘরে ফেরার নেপথ্যে কেবল ভোটদান নয়, ক্ষোভের সুরও শোনা গেল। দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ আলম বলেন, বিজেপি যেভাবে ভিনরাজ্যে শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই মূলত সবাই ভোট দিতে বাড়ি ফিরে এসেছি। ইভিএমেই আমরা জবাব দিয়েছি।
শ্রমিক রুস্তম আলীর কথায়, বাসভাড়ার মোটা টাকা আপাতত ঠিকাদার মেটালেও তা তাঁদের মাথার উপর ঋণের বোঝা। আগামী দিনে পঞ্জাবে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে পারিশ্রমিক থেকে অল্প অল্প করে এই টাকা শোধ করতে হবে।
রবিবার বিকেলে লালবাজার এলাকায় চোপড়ার বিভিন্ন প্রান্তের যুবকেরা জড়ো হন। সেখান থেকে বাসে চেপে ফের শুরু হয় ভিনরাজ্যের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ পথযাত্রা। একরাশ স্বপ্ন আর ঘরের টানে আবার ফেরার কথা বলে পঞ্জাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন উত্তর দিনাজপুরের ঘরের ছেলেরা।