ভবানীপুরে ভিড় বাড়াতে ‘দাদা’র ভরসা মেদিনীপুর, দলের মহিলা নেত্রী ও কর্মীদের যাওয়ার ফতোয়া
বর্তমান | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: তীব্র গরমে দেড়-দু’মাস ধরে টানা নির্বাচনি প্রচার ও দলের কাজ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। গত বৃহস্পতিবার ভোটপর্ব মিটলেও পশ্চিম মেদিনীপুরের গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা এখনো নিস্তার পাননি। কারণ, হাইভোল্টেজ আসন ভবানীপুরে দাদার প্রচারে ভিড় বাড়াতে তাঁদের নিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। প্রচণ্ড গরমে কর্মী-সমর্থকদের শারীরিক কষ্ট বাড়ছে। সংগঠনের বেহাল অবস্থায় এই দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মীরা। কান পাতলে এমনটাই শোনা যাচ্ছে বিজেপির অন্দরে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই তমলুকের বেশ কয়েকজন নেতা দাদার কর্মসূচিতে রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবিও তাঁরা পোস্ট করছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪সালের লোকসভা ভোটে পর্যুদস্ত হয় ভারতীয় জনতা পার্টি। অনেকেই ভেবেছিলেন, লোকসভা ভোটের পর সংগঠন আরও মজবুত করতে জোর দেবে দল। সেই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছিল সদস্য সংগ্রহ অভিযান। অনেকের মতে, তা ছিল ‘লোকদেখানো’। ফলে বাস্তবে সংগঠন বৃদ্ধিতে তেমন সাফল্য আসেনি। দলের গোষ্ঠীকোন্দলও কমেনি বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। তারমধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে একের পর এক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ভিনরাজ্যের নেতাদের এনে সভা, মিছিল, সব মিলিয়ে জোরদার প্রস্তুতির ছবি তুলে ধরার চেষ্টা হয়। শুরু হয় ‘পরিবর্তন যাত্রা’। কিন্তু, বহু ক্ষেত্রেই সেই কর্মসূচিতে প্রত্যাশিত ভিড় দেখা যায়নি। একাধিক সভায় খালি চেয়ার নজরে এসেছে। জানা গিয়েছে, এবার ভবানীপুরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন দলবদলু দাদা। মমতার সভা ও কর্মসূচিতে ভিড় হচ্ছে। দাদার কর্মসূচিতেও শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির। বাসে বা ছোটো গাড়িতে মেদিনীপুর শহর বা লাগোয়া এলাকার কর্মীরা কলকাতায় যাচ্ছেন। মহিলা কর্মীদেরও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কর্মসূচি সেরে রাতে ফিরছেন। পালা করে পরেরদিন অন্য নেতা-কর্মীরা যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে আগেই অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। সেকারণে ভবানীপুরে বিজেপির সংগঠনের হাল নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠছে। একান্ত আলাপচারিতায় বিজেপির এক নেতা বলেন, দেড় মাস টানা প্রচারের পর আবার কলকাতায় যেতে হচ্ছে। কলকাতার আশপাশের জেলার ভূমিকা কী? এবার সংগঠন নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। তীব্র গরমে আমাদের সমস্যা আরও বাড়ছে।
যদিও মেদিনীপুরের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত বলেন, তৃণমূলই সারা রাজ্য থেকে মানুষ এনে প্রচার করছে। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় লোক হচ্ছে না। তৃণমূলের বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। এবার পরির্বতন হবেই। তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরা কটাক্ষ করে বলেন, দলবদলু নেতা এতটাই জনপ্রিয় যে ভবানীপুরে প্রচারের জন্য মেদিনীপুর থেকে লোক নিয়ে যেতে হচ্ছে! এখন নির্বাচনের সময় বলে বিজেপির নেতাদের রাস্তায় দেখা যাচ্ছে। কিন্তু, এসআইআরের সময় তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এরা সুবিধাবাদী।