নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, নদীয়া: টানা দাবদাহের পর রবিবার সকাল থেকে আকাশ ছিল মেঘলা। স্বস্তির এই আবহাওয়া রবিবাসরীয় প্রচারকে জমজমাট করে তুলতে অনুঘটকের কাজ করল। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে শেষ রবিবার তুমুল উৎসাহে প্রচারে ঝাঁপাল সমস্ত রাজনৈতিক দল। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র দেখা গেল জোরকদমে প্রচার, রোড শো, মিছিল এবং নিবিড় জনসংযোগের ছবি। কোথাও তারকাদের উপস্থিতি, কোথাও আবার শক্তি প্রদর্শনের মহড়া। সব মিলিয়ে দিনভর নির্বাচনি উত্তাপে ফুটল গোটা নদীয়া।
কালীগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ ইতিমধ্যেই প্রায় সমস্ত পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার সেরে ফেলেছেন। এদিন মিরা-১ ও হাটগাছা পঞ্চায়েতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বললেন তিনি। তাঁর দাবি, অধিকাংশ এলাকায় প্রচার সম্পূর্ণ, বাকি অংশেও মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে নাকাশিপাড়ায় তৃণমূল প্রার্থী কল্লোল খাঁ বেথুয়াডহরি এলাকায় বিশাল রোড শো করে শক্তি প্রদর্শন করেন।
কৃষ্ণনগর দক্ষিণে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের নেতৃত্বে ধুবুলিয়া দেশবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় ময়দান থেকে সিংহাটি মোড় হয়ে মায়াকল পর্যন্ত জাতীয় সড়ক ধরে নজরকাড়া বাইক মিছিল হয়। সকালেই কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় রোড শো করে প্রচার করেন তিনি। বিজেপিও পিছিয়ে ছিল না প্রচারে। কালীগঞ্জে বাপন ঘোষ ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণে সাধন ঘোষের সমর্থনে প্রচারে নামেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি সিপিএম প্রার্থীরাও নিজেদের মতো করে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান।
করিমপুর কেন্দ্রে এদিন কার্যত চতুর্মুখী লড়াইয়ের আবহ স্পষ্ট। তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএম, চার দলের প্রার্থীরাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত করিমপুর কেন্দ্র চষে বেড়ান। তৃণমূল প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী সকালেই করিমপুর রেগুলেটেড মার্কেট মাঠে প্রাতঃভ্রমণকারী ও শরীরচর্চায় ব্যস্ত মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের সঙ্গে সোহমকে ক্রিকেট খেলতেও দেখা যায়। বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ সকালে গাজীপুর ও বগলবেড়িয়া অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালিয়ে দুপুরে বেতাইয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভায় যোগ দেন। সন্ধ্যার পর ফের প্রচারে নামেন তিনি। কংগ্রেস প্রার্থী পূজা রায়চৌধুরী ধোড়াদহ ও মুরুটিয়া এলাকায় প্রচার চালান।
শান্তিপুরে ত্রিমুখী লড়াইয়ের উত্তাপ এদিন চরমে পৌঁছায়। তৃণমূল প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামী নজর কাড়েন প্রচারের ভিন্ন ধারায়। ঐতিহ্যবাহী তাঁত হাটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি একটি দোকানে ঢুকে নিজেই লুচি ভাজতে শুরু করেন। তাঁর এই সহজ সরল আচরণে খুশি হন সাধারণ মানুষ। ব্রজকিশোরের বক্তব্য, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই তাঁদের প্রধান শক্তি। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাসের সমর্থনে বর্ণাঢ্য রোড শো অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। শহরজুড়ে এই শোভাযাত্রা ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বাম প্রার্থী সৌমেন মাহাতো অবশ্য বড় সভার পরিবর্তে নিবিড় জনসংযোগেই জোর দিয়েছেন। ঢাকাপাড়া এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যার কথা শোনেন এবং কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
নবদ্বীপেও শেষ রবিবারে প্রচারের তীব্রতা ছিল তুঙ্গে। তৃণমূল প্রার্থী পুণ্ডরীকাক্ষ (নন্দ) সাহার সমর্থনে পুরসভা ও ব্লকের একাধিক এলাকায় র্যালি ও পথসভা হয় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। বামফ্রন্ট প্রার্থী স্বর্ণেন্দু সিংহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচার চালিয়ে সন্ধ্যায় বুড়ো শিবতলা সহ কয়েকটি এলাকায় সভা করেন। বিজেপি প্রার্থী শ্রুতিশেখর গোস্বামী মহিশুড়া পঞ্চায়েতের কালীনগরে জনসংযোগ যাত্রা করেন।সব মিলিয়ে, আবহাওয়া সামান্য অনুকুল হতেই শেষ রবিবার প্রচার জমে ওঠে নদীয়াজুড়ে।