পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট কোথায় পড়ল. অঙ্ক কষছে সব রাজনৈতিক দল
বর্তমান | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
অভিষেক পাল, বহরমপুর: পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট-মন দরাজ হল কার প্রতি? প্রথম পর্যায়ের নির্বাচন শেষে মুর্শিদাবাদ জেলায় অঙ্ক কষছে সব রাজনৈতিক দলই। আর সেই অঙ্কের সমাধানে বিজেপি শাসিত রাজ্যে নির্যাতনের ইস্যুও চর্চার বিষয় হয়ে উঠছে।
জেলায় এবার প্রায় ১২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ভোট দিয়েছেন। যা অতীতের সব নির্বাচনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এসআইআর হওয়ার পর এই প্রথম ভোট। ফলে, পরিযায়ী শ্রমিকদের কেউই ভোটদান থেকে বিরত থাকার ঝুঁকি নেননি। ভিনরাজ্যের পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন জেলায় কর্মরত শ্রমিকরাও ভোট দিয়েছেন। সবাই ট্রেনে-বাসে বাদুর ঝোলা হয়ে ঘরে ফিরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, জেলার যে বিধানসভায় বেশি নাম বাদ পড়েছে, সেখানেই এবার ভোটের হার বেশি। তবে, বিদেশে থাকা পরিচয় শ্রমিকরা বিপুল টাকা খরচ করে অনেকেই ফিরতে পারেননি। কিছু কিছু শ্রমিক ইদের সময় বাড়ি ফিরেছিলেন। তাঁরা অবশ্য ভোট দিয়ে ফের বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন।
পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন জানাচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তত ১৫ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এবং ভিন দেশে কাজ করে। অনেক গ্রাম থেকে দল বেঁধে ৮০-৯০ জন করে যুবক পাড়ি দেয় মোটা বেতনের খোঁজে। কেউ নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কেউ আবার ভিন রাজ্যে কারখানার কাজে যোগ দেন। সৌদি আরব, দুবাই, কুয়েতের মতো দেশে গিয়ে শ্রমিকরা বাড়ির বাগানে কাজ করেন। আবার কেউ সেখানকার বিভিন্ন শপিং মল ও নির্মাণ সংস্থায় কাজ করেন। সব মিলিয়ে তাঁদের একটা বড় অংশ এবার জেলায় ফিরেছেন। সংখ্যাটা ১২ লক্ষের কাছাকাছি। তাঁরা সকলেই ভোট দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট এবার ফলাফলে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে, এবার বাংলার নির্বাচনে পরিযায়ীদের উপর আক্রমণ অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে একের পর এক শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন। পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। ভিনরাজ্যে বাঙালি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবকদের প্রতিনিয়ত নিশানা করা হচ্ছে। আতঙ্কে গত এক বছরে বহু পরিযায়ী শ্রমিক ঘরে ফিরে এসেছেন। সেই স্মৃতি যদি টাটকা থাকে তা হলে ওইসব শ্রমিকদের পরিবারের ভোট বিজেপির বিরুদ্ধে গিয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। সেক্ষেত্রে অ্যাডভান্টেজ রাজ্যের তৃণমূলের। কেননা, নির্যাতিত পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে একমাত্র দাঁড়িয়ে ছিল শাসকদল। চিকিৎসার খরচ বহনের পাশাপশি তাঁদের ঘরে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যও করেছেন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা।
পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা হরিহরপাড়ার যুবক শামিম রহমান বলেন, জেলার কোনো পরিযায়ী শ্রমিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আমরা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছি। তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেই রাজ্যে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। এই পরিযায়ী শ্রমিকরা বিজেপির অত্যাচার দেখেছে। তাঁরা গ্রামে ফিরে মানুষজনকে বুঝিয়েছেন। রাজ্যের শাসকদলের পক্ষেই তাঁরা কথা বলছেন। ফলে তাঁদের ভোট সেদিকেই পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
পরিযায়ীদের নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার মতিউর রহমান বলেন, ‘বাঙালি শ্রমিকদের উপর অত্যাচার এবার ভোটের অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যু হয়েছে ঠিকই। তারউপর এসআইআরে হেনস্তা হতে হয়েছে। সেই কারণেই তাঁদের মধ্যে ভোট দানের উৎসাহ এবার ব্যাপক বেড়েছে। বিদেশ থেকে সকলে হয়তো ফিরতে পারেননি। তবে অন্য রাজ্য থেকে সকলেই ফিরেছেন। তাঁরা ঢালাও ভোটও দিয়েছেন।’