গণতান্ত্রিকভাবে বেইমানদের জবাব দিন, বুধবার বিজেপির কফিনে শেষ পেরেক: অভিষেক
বর্তমান | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন বুধবার। সেদিনই বিজেপিকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার ডাক দিলেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বার্তা, ‘গণতান্ত্রিকভাবে বেইমানদের জবাব দিন। ২৯ এপ্রিল বিজেপির কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিন।’
প্রথম দফার নির্বাচন হয়ে গিয়েছে ২৩ এপ্রিল। রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা আসনের নির্বাচন শেষে প্রত্যয়ী তৃণমূলের দাবি, ‘১০০ পার করে গিয়েছি আমরা। বাকি আর এক দফার ভোট। এই দফায় আমরা ২০০ পার করে এগিয়ে যাব।’ অভিষেক দাবি করেছেন, তৃণমূলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ২২৫ ছাড়িয়ে যাবে। বিজেপি ৫০টি আসনও পাবে না। আগামী দু’-তিন বছরের মধ্যে দিল্লি থেকেও বিজেপিকে উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ২৯ তারিখ ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোট হবে। যেসব কেন্দ্রে ভোট হবে, সেই জায়গাগুলি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। তাই জোড়াফুল শিবিরের নেতারা আশাবাদী, শেষ দফায় তৃণমূলের ফল খুব ভালো হবে। এই সূত্রেই শেষ লগ্নের প্রচারে নির্বাচনি সভা থেকে বিজেপিকে তুমুল আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
নির্বাচনের আগে শেষ রবিবার দিনভর প্রচার কর্মসূচি ছিল অভিষেকের। এদিন প্রথমে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলি উত্তর ও কাটোয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারে সভা করেন তিনি। তারপর দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পূর্ব ও মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করেন। ফলতা কেন্দ্রে রোড শো করেন তারপর। প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে অগণিত
মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে জোড়াফুল শিবিরের দাবি, এই মানুষ ভোট দিলেই
বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত। অভিষেক বলেন, ‘২৯ এপ্রিল ইভিএমের বোতাম এমনভাবে টিপবেন, যাতে দিল্লি, গুজরাতে ভূমিকম্প হয়। ওই দিন বহিরাগত বিজেপিকে বিদায় দিন। ওদের উচিত শিক্ষা দিয়ে তৃণমূলকে জিতিয়ে দিন। গদ্দারদের বাংলা ছাড়া করার শপথ নিন।’
গত দেড় মাস ধরে বিধানসভা ভোটের প্রচারে ঝড় তুলেছে তৃণমূল। ২৯১টি বিধানসভা কেন্দ্রেই জনসভা, রোড শো করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও তৃণমূলের তারকা প্রচারকরা ছুটে বেড়াচ্ছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। আজ, সোমবার প্রচারের শেষ দিন। এদিন মমতার মেগা পদযাত্রা রয়েছে। ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে অভিষেকেরও। তার আগে রবিবার প্রচারের একেবারে অন্তিম পর্বে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ভোট চেয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। সেই সঙ্গে এসআইআরের নাম করে বিজেপি যেভাবে মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে, তার জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিষেকের কথায়, ‘স্বাধীনতার ৭৯ বছর পর আমাদের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে! নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি যে ঘটনা ঘটিয়েছে, এর জবাব ওরা পাবেই। এই ভোটে বিজেপিকে ভোকাট্টা করব। ভোট মিটলে জ্ঞানেশ কুমারকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যাব।’টাকা ছড়িয়ে, নির্বাচন কমিশন এবং সমস্ত এজেন্সিকে কাজে লাগিয়েও বিজেপি জিততে পারবে না বলে দাবি অভিষেকের। তিনি বলেন, ‘ওদের যাবতীয় ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। এর একটাই কারণ— বাংলার মানুষ আছে তৃণমূলের পাশে।’