• মোদির সভায় ইট-বালির খরচে জল মিশিয়ে ‘লুট’ ৮০ লক্ষ
    বর্তমান | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’। ‘চুন চুন কর হিসাব হোগা’। বাংলায় ভোট প্রচারে এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদের কথা বারবার শোনা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপির পোস্টার বয় নরেন্দ্র মোদির মুখে। তাতে আবার সঙ্গত দিচ্ছেন অমিত শাহ। কিন্তু এই প্রচার বাস্তবে কতটা কার্যকরী? ডবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশ হোক, গুজরাত বা উত্তরপ্রদেশ—আর্থিক কেলেঙ্কারির আগুন কিন্তু চাপা নেই। উপরন্তু যে রাজ্যে ক্ষমতায় নেই, সেখানেও দুর্নীতির বীজ বপণ শুরু হয়ে গেল গেরুয়া বাহিনীর। অভিযোগের বিস্ফোরণ হয়েছে খাস পশ্চিমবঙ্গে। আর তাও নরেন্দ্র মোদির সভা ঘিরে। পানিহাটিতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য বরাদ্দ টাকার বেশিটাই ভুয়ো বিল দেখিয়ে ‘লুট’ করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। দলের নির্বাচনি কমিটির গ্রুপে এনিয়ে প্রকাশ্যে তোপ দাগা হচ্ছে। এমনকি, শনিবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হাতাহাতির পরিস্থিতি পর্যন্ত তৈরি হয়। সবের মূলে, ৮০ লক্ষ টাকা।

    গত ২৪ তারিখ সকালে পানিহাটির অমরাবতী মাঠে ছিল প্রধানমন্ত্রীর জনসভা। কপ্টার নেমেছিল গোশালা মাঠে। সেখানে হেলিপ্যাড তৈরির জন্য প্রয়োজন পড়েছিল ইটের। পাশাপাশি, অমরাবতী মাঠের আবর্জনা পরিষ্কার, বালি ফেলে মাঠ ঠিক করা সহ ছিল আরও কাজ। আর ছিল জল-খাবার। পানিহাটির বিজেপি নেতাদের দাবি, এই সব কাজের জন্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা এসেছিল। আর সেই টাকার অর্ধেকের বেশি ভুয়ো বিল দেখিয়ে ‘লুট’ করে নেওয়া হয়েছে। ইট, বালি, পানীয় জল তো বটেই, মাঠ পরিষ্কারের জন্য আনা শ্রমিকদের প্রাপ্য থেকেও বিপুল টাকা কাটমানি খাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এ নিয়েই হয়েছে ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

    গেরুয়া শিবির ‘১১১ পানিহাটি বিধানসভা ২০২৬’ নামে একটি নির্বাচনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছে। সেখানে জেলা ও বিধানসভা এলাকার নেতারাও রয়েছেন। তাতে এক কর্মী লিখেছেন, ‘কর্মীরা থ্রেট শুনছেন। অন্যদিকে হেলিপ্যাড ও অমরাবতী মাঠ থেকে মোটা টাকা মুনাফা করে বেরিয়ে যাচ্ছে একটি শ্রেণি। অপেক্ষা করুন, সবার নাম প্রকাশ করব।’ ওই বক্তব্যে দলের অপর কর্মীরা আবার লাইক দিয়েছেন। দলের আর এক কর্মী লিখেছেন, ‘কত হাজার ইট লাগল? জিএসটি বিল দিচ্ছে কি? লেবার মিস্ত্রির রোজ কত? বিলে দেখানো হচ্ছে কত? ঝাড়ছে কত? অনুষ্ঠান শেষে ইটগুলো কোথায় গেল? জঙ্গল পরিষ্কারের জন্য লেবারদের কত টাকা দেওয়া হয়েছে, আর খাতায় কত টাকা লেখা হয়েছে? সব হিসাব আমি তৈরি করছি। বিল্ডার্সেও গিয়েছি। লেবারদের সঙ্গে কথা বলেছি। সব তথ্য ফাঁস করে দেব।’ ক্ষুব্ধ আর এক কর্মী লিখেছেন, ‘আইটি রুম ছাড়া সব রুমের তালা ভাঙব।’ অপর কর্মী ওই বক্তব্যের পালটা লিখেছেন, ‘আইটি রুমে কোলবালিশ রাখা আছে। বিছানা পাতা আছে।’ 

    এখানেই শেষ নয়, শনিবার সন্ধ্যায় পানিহাটির এইচবি টাউন লাগোয়া নির্বাচনি কার্যালয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা, গালিগালাজ ও ধস্তাধস্তি চলে। সেখানে অভিযোগ তোলা হয়, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে যে মহিলারা হেলিপ্যাডে গিয়েছিলেন, তাঁদের টাকার বিনিময়ে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ভিআইপি পাস বিলি, প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে যাওয়া মহিলাদের টাকা বিলিতে দুর্নীতি, মক পোলিংয়ে থাকার জন্য এজেন্ট পিছু ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও, কেন ২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, এই প্রশ্ন তুলে তুলকালাম বাধে। যদিও এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘এমন কোনো অভিযোগ আমি শুনিনি। ঝামেলা হয়েছে বলেও জানি না। তবে আমি নিশ্চিত, বিজেপিকে রুখতে এমন ষড়যন্ত্র বহু জায়গায় হচ্ছে। লাভ হবে না।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)