• ফের তুঘলকি নির্বাচন কমিশনের, ৫০০ মিটার পর্যন্ত ক্যামেরায় নজরবন্দি বাংলার দ্বিতীয় দফা
    বর্তমান | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাখির চোখ দ্বিতীয় দফা! বুধবার দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোট। আর বেনজিরভাবে দ্বিতীয় দফার ভোটে নিরাপত্তার বেষ্টনী আরও কঠোর করতে চলেছে কমিশন। জানা যাচ্ছে, এবার আর শুধুমাত্র বুথের ১০০ মিটার পর্যন্ত নজরদারি নয়। বুথের বাইরের ৫০০ মিটার পর্যন্ত নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কিন্তু প্রথম দফার পর হঠাৎ করে কেন এই সিদ্ধান্ত? প্রশ্ন উঠছে।

    কিছু বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এমনকি কোনো বুথে পুনর্নির্বাচনের মতো সিদ্ধান্তও নিতে হয়নি। তা সত্ত্বেও প্রথম দফার ভোট চলাকালীন ১০০ মিটারের পরিসর বাড়িয়ে ২০০ মিটার করার নিদান দিয়েছিল কমিশন। দ্বিতীয় দফায় প্রথম থেকেই ৫০০ মিটার। জানা যাচ্ছে, এবার বুথমুখী রাস্তায় থাকবে সিসি ক্যামেরা। এতদিন বুথের মধ্যে একটি এবং বাইরে একটি করে সিসি ক্যামেরা বসানো থাকত। এবার বুথমুখী রাস্তার সিসি ক্যামেরা দিয়ে বুথের আশপাশের ৫০০ মিটার পর্যন্ত নজরদারি চালানো হবে। কমিশনের যুক্তি, এই দফায় গ্রামীণের পাশাপাশি বেশিরভাগ শহুরে এলাকার ভোট রয়েছে। শহরাঞ্চলে ঘিঞ্জি এলাকায় বুথের সংখ্যা বেশি। সেক্ষেত্রে বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ঝামেলা না হলেও তার আশপাশের এলাকা উত্তপ্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। তাই এমন সিদ্ধান্ত। কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানাচ্ছেন, প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফার ভোট কঠিন। মূলত দুই ২৪ পরগনা এবং কলকাতার ভোটে অতীত হিংসার নজির রয়েছে। ভোটে যাতে কোনোরকম অশান্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে যাবতীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকায় ২৭০টি সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে কমিশন। দক্ষিণ কলকাতায় ৪৫৮টি। যেসব জায়গায় ক্যামেরা থাকবে না, সেখানে কুইক রেসপন্স টিমকে (কিউআরটি) বুথের ৫০০ মিটারের মধ্যে সর্বক্ষণ নজরদারি চালাতে হবে। সেক্ষেত্রে তাদের ক্যামেরা লাগানো গাড়ির মাধ্যমে সবটা নজরদারির আওতায় রাখবে কমিশন। তৃণমূলের প্রশ্ন, নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের নির্দেশেই আস্থা নেই কমিশনের। দ্বিতীয় দফা ৫০০ মিটার দিয়ে শুরু করছে কমিশন। ভোট শুরু হলে কি হাজার মিটার হবে?  

    অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফাতেও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং সমস্ত থানার আইসি এবং ওসিদের কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের এলাকার মধ্যে যদি কোনো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়, বা কেউ ভয় দেখানোর কৌশল অবলম্বন করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ওসি বা আইসিকে নজিরবিহীন পরিণতির মুখে পড়তে হবে। সমস্ত ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ করতে হবে। পাশাপাশি বলে দেওয়া হয়েছে, ভোটের কাজে ব্যবহৃত কোনো ক্যামেরা বন্ধ থাকলে ১০ মিনিটের মধ্যেই সেখানে কিউআরটি পাঠাতে হবে। পাশপাশি এবার যেসব হাইরাইজ বিল্ডিংয়ে বুথ হচ্ছে, সেখানে বাইরের বিধানসভার যদি কেউ থাকেন, তাঁর নথি জমা দিতে হবে বিল্ডিং কর্তৃপক্ষকে। বাড়িতে কাজ করতে আসবেন যাঁরা, তাঁদেরও পরিচয়পত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)