সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ভোটের স্বার্থে বাংলার মনীষীদের অবদান সম্পর্কে আবেগ উস্কে দিতে গিয়ে ফের বিতর্কে জড়ালেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা ‘হিন্দুত্বের পোস্টার বয়’ যোগী আদিত্যনাথ।
শনিবার নবদ্বীপে দলীয় প্রার্থীর প্রচারে এসে বাংলার নবজাগরণের প্রাণপুরুষ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মসাল সম্পর্কে অবলীলায় ভুল তথ্য পরিবেশন করে গিয়েছেন! এ নিয়ে তিতিবিরক্ত নবদ্বীপের গোটা বৈষ্ণব সমাজ। রবিবার রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে মহাপ্রভুর জন্মদিন নিয়ে যোগীর অজ্ঞতাকে তুলে ধরে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল। সবমিলিয়ে বেজায় অস্বস্তিতে বিজেপি প্রার্থী শ্রুতিশেখর গোস্বামী। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, শ্রুতিশেখর চৈতন্য পারিষদ অদ্বৈত আচার্য মহাপ্রভুর পরিবারের সন্তান। তাঁর হয়ে প্রচারে এসে যোগী কীভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মসাল ভুল করেন, সেটাই বেশি করে আঘাত দিয়েছে বৈষ্ণব সমাজকে। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে শ্রুতিশেখর এদিন বলেছেন, ‘স্লিপ অব টাঙ। মিসটেক হয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে রাজনীতি না করাই ভালো।’ পাল্টা প্রশ্ন যোগী তো কোনও অরাজনৈতিক সভায় চৈতন্য-প্রসঙ্গ তোলেননি। তা হলে কেনই বা তাঁর দেওয়া ভুল তথ্য নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক হবে না?
যোগী এর আগেও স্বামী বিবেকানন্দ আর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে গুলিয়ে ফেলেছিলেন ভোটের ময়দানে। তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘স্বামীজি বলেছিলেন তোমরা আমায় রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।’ সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার দুপুরে নবদ্বীপ চটির মাঠে নির্বাচনি সভায় যোগী বলেন, চৈতন্য মহাপ্রভু ১৮৮৬ সালে নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শুধু নবদ্বীপ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ যাঁর টানে নবদ্বীপে ছুটে আসেন।’ কিন্তু মহাপ্রভুর আবির্ভাবের সাল ১৪৮৬ জায়গায় তিনি বলেন ১৮৮৬ সাল। তা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নিশানা করে বিজেপিকে। তাদের বক্তব্য, আদিত্যনাথ ভুল তথ্য দিলেও মঞ্চে উপস্থিত বিজেপি প্রার্থী শ্রুতিশেখর ভুল সংশোধনের চেষ্টা করলেন না। এমনকি আদিত্যনাথও নবদ্বীপবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেননি। যাঁরা জন্মসাল বিকৃত করল, তাঁদের বিরুদ্ধে নবদ্বীপের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের দলমত নির্বিশেষে প্রতিবাদে নামা উচিত। শহর তৃণমূলের কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত সাহা বলেন, অবাক হয়ে গেলাম। যোগী আদিত্যনাথকে যাঁরা তথ্য সরবরাহ করেন, তাঁরা মহাপ্রভুর জন্ম সালটাই ঠিকঠাক জানেন না।’
চৈতন্য মহাপ্রভু হলেন নবদ্বীপবাসীর কাছে আবেগ। স্বাভাবিকভাবেই যোগীর মুখে এই মণীষীর জন্মসাল সম্পর্কে ভুল তথ্য শুনে ক্ষুব্ধ নবদ্বীপের বিদগ্ধজনেরা। নবদ্বীপ পুরতত্ত্ব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরঞ্জন দেব বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি, নেতারা বাংলার মনীষীদের সম্পর্কে ভুল তথ্য দিচ্ছেন। ওঁরা বাইরে থেকে আসছেন। এ ব্যাপারে ওঁদের বেশি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, এখানে ওঁদের যাঁরা গাইড করেন তাঁদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। পদাধিকারীরা ভুল তথ্য দিলে, ভুল ব্যাখ্যা করলে সমালোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক।’ নবদ্বীপের গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের মহাসচিব কিশোরকৃষ্ণ গোস্বামী বলেন, ‘রাজনীতিকদের উচিত সঠিক তথ্য জেনে মানুষের সামনে প্রকাশ করা। তা না হলে বিভ্রান্তি ছড়াবে। এটা মোটেও কাম্য নয়।’