সংসার, রিয়্যালিটি শো-এর ভারসাম্য বজায় রেখে ফের অভিনয়ে ফিরলেন। নতুন কাজের কথা ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রথম ধারাবাহিক ‘স্বপ্ননীল’। তবে, ‘এক আকাশের নীচে’ ধারাবাহিকের ‘পাখি’ চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের ড্রয়িংরুমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন, অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। সালটা ২০০০।
ছোটোপর্দার গণ্ডি পেরিয়ে সেই ‘পাখি’র ডানা মেলে বড়পর্দায় উড়ান ২০০৪ সালে। রূপোলি পর্দার জগতে গুরু রবি ওঝার হাত ধরেই, বাংলা ছবি ‘আবার আসিব ফিরে’-তে নায়িকার চরিত্রে ডেবিউ করেন কনীনিকা। সংসার, রিয়্যালিটি শো-এর ভারসাম্য বজায় রেখেই আবারও অভিনয়ে ‘প্রত্যাবর্তন’।
তখন অন্য একটি সিনেমার শ্যুটিং শুরুর অপেক্ষায় কনীনিকা। সমর্পণ সেনগুপ্ত পরিচালিত ‘প্রত্যাবর্তন’-এর কিছুটা শ্যুটিং এগিয়ে গিয়েছে। সেসময় ফোন গিয়েছিল অভিনেত্রীর কাছে। চিত্রনাট্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন। দুই প্রজন্মের মেলবন্ধন এখনও তৈরি না হওয়ার গল্প নিয়ে এগিয়েছে চিত্রনাট্য। কনীনিকা নিজেও একজন মা। বিয়ের পরেই ১১বছরের দ্রোণের হঠাৎ ‘মা’ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। স্বামীর প্রথম পক্ষের ছেলে দ্রোণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা প্রথম থেকেই সুন্দর। বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেকে সঠিক পথে চালনা করতে কখনো আদরে, কখনো বা শাসনে বড় করেছেন। বর্তমানে দ্রোণের বয়স ২১। পরবর্তীতে কন্যা সন্তানের মা হন কনীনিকা। কিয়া ৬ বছরে পা রেখেছে। ‘সঠিক-বেঠিকের হিসেব, সন্তানদের সঙ্গে সেই সেতুবন্ধনের নামই যখন এই সিনেমা তখন আর কিছু না ভেবেই এই ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হয়ে গিয়েছিলাম’, বললেন তিনি। নিজের মেয়ের স্কুলের প্রিন্সিপালের আদলেই এই সিনেমায় পর্দার প্রিন্সিপাল হয়ে উঠেছেন। অপরাজিতা আঢ্য, অঞ্জন দত্ত, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতাদের উজ্জ্বল উপস্থিতি তাঁকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে জানালেন কনীনিকা।
কাজ থেকে ফিরেই কিয়ার সঙ্গে সময় কাটানো কনীনিকার প্রায়োরিটি। আগে বাবা-মায়েরা যেভাবে সন্তানদের সময় দিতেন, বর্তমানে কর্মব্যস্ততায় সেই সময়ের বড় অভাব। অভিনেত্রী বলেন, ‘সন্তানদের না-বলা কথা শুনতে পাই না, বলা কথাও আমরা এখন শুনতে পাই না। সন্তানদের হাত ধরে শিখছি।’
জীবনে কোন অধ্যায়ের ‘প্রত্যাবর্তন’ চান? একটু থেমে কনীনিকা বললেন, ‘মাকে যদি আবার ফিরে পেতাম, তাহলে মাকে জড়িয়ে ধরে শ্যুটিং নেই বলে বা পকেটে পয়সা নেই বলে মনখারাপ না করে, মায়ের সঙ্গে সময়টা কাটাতাম।’ এই ‘প্রত্যাবর্তন’-এর আশাতেই যেন বেঁচে থাকা, নিজেকে প্রতি মুহূর্তে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস করে চলেছেন কনীনিকা।