ভোটের শেষ প্রচারের আগেই ধুন্ধুমার উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে। রবিবার রাতে জগদ্দল থানার সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার গোপাল রাউত। এ ছাড়াও ধৃতদের তালিকায় আছেন কৌশিক দাস, সিকান্দর প্রসাদ, শ্যামদেব সাউ। এ দিকে গোপাল রাউতকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোমবার ভাটপাড়া থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল।
ভোট এলে জগদ্দলে অশান্তির অভিযোগ উঠবেই। মারামারি, বোমাবাজি, হুমকি-হুঁশিয়ারি মামুলি ব্যাপার। এ বারও তার অন্যথা হলো না। রবিবার রাতে গুলি চলা, বোমাবাজি সবই দেখলেন জগদ্দলের বাসিন্দারা। তা-ও আবার একেবারে থানার সামনে। আটচালা বাগান এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও র্যাফ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষের চেহারা নেয়। অভিযোগ, উভয় পক্ষের মধ্যে ইটবৃষ্টি শুরু হয় এবং বেশ কয়েক জন আহত হন।
বিজেপির দাবি, তাদের জগদ্দল কেন্দ্রের প্রার্থী রাজেশ কুমার সদলবলে থানায় গিয়েছিলেন। থানার সামনেই তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে। অন্যদিকে তৃণমূলের ভাটপাড়া কেন্দ্রের প্রার্থী অমিত গুপ্ত দাবি করেছেন, তাঁদের এক কর্মীকে মারধর করা হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং ও তাঁর অনুগামীরা তৃণমূল কর্মীদের উপরে চড়াও হন। এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং জগদ্দল থানার গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এর পরে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বিজেপি প্রার্থী পবন কুমার সিং-এর বাড়িতে হামলা চালায়। পবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা CISF জওয়ান যোগেশ শর্মা গুলিবিদ্ধ হন বলে সংবাদমাধ্যমে জানান অর্জুন-পুত্র।
পাল্টা তৃণমূলের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমে যে ফুটেজ দেখানো হচ্ছে, সেখানে দেখাই যাচ্ছে অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতিতে কী হয়েছে সেখানে। থানার সামনে এসে অর্জুন তাঁর বাহিনী নিয়ে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের মারধর করেছেন বলে অভিযোগ শাসকশিবিরের।
সোমবার জগদ্দলে নরেন্দ্র মোদীর সভা রয়েছে। সকাল থেকে এলাকায় বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তবে বার বার নির্বাচনের আগে এই ধরনের অশান্তির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। পুলিশ এই ঘটনায় প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। অর্জুন সিং জানান, ২০ থেকে ২২ জনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে পুলিশের কাছে।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভাটপাড়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার গোপাল রাউতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।