এই সময়: ভোট দিতে যাওয়া কেউ আটকালে তাঁর কপালে দুঃখ আছে। আটকানো, ধমকানো বা চমকানো-সবেরই ওষুধ আমাদের কাছে মজুত, সঠিক সময়ে তা প্রয়োগ করা হবে। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছে এ ভাবেই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল।
এ দিন হেলিকপ্টারে কালনায় পৌঁছে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন তিনি। কৃষ্ণদেবপুরের হরিহরপাড়ায় যখন আচমকা সিইও-কে বাড়ির সামনে দেখেন শিখা হালদার, উষা বারুই বা তনিমা মণ্ডলরা, তখন তাঁরা রীতিমতো স্তম্ভিত। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সস্নেহে জিজ্ঞাসা করেন, 'কোনও অসুবিধা নেই তো?' উত্তরে কোনও অভিযোগ নয়, বরং শ্রদ্ধায় ওঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন তিন মহিলা। সিইও-ও মাথায় হাত দিয়ে আশীবাদ করেন। পরে তাঁরা জানান, প্রথম দফার ভোটে কোনও প্রাণহানি হয়নি, বড় অশান্তি ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, সেই আস্থাতেই তাঁরা নির্বাচন কমিশনারকে প্রণাম জানিয়েছেন।
কালনা থেকে কাটোয়া বর্ধমান হয়ে এ দিন ঝোড়ো সফর করেন মনোজ আগরওয়াল। সঙ্গে ছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল ও পুলিশ সুপার সায়ক দাস। কাটোয়ার পানুহাট, মণ্ডলহাট, একাইহাটের বিভিন্ন বুথ এলাকা পরিদর্শন করে আমজনতার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কেউ ভয় দেখাচ্ছে কি না, তা খুঁটিয়ে জানতে চান। এর পরে বর্ধমানের মিরছোবা এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, 'দুর্গাপুজোর মণ্ডপ দেখার মতো আনন্দ নিয়ে বুথে যান, নির্ভয়ে ভোট দিন।'
প্রথম দফায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সিইও জানান, দ্বিতীয় দফাতেও ১০০ শতাংশ ভোটিং তাঁদের লক্ষ্য। বিশেষ করে দ্বিতীয় দফায় অনেক ঘনবসতিপূর্ণ শহর এলাকা থাকায় নিরাপত্তার উপরে বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এ বারে ওয়েব কাস্টিং ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। জিপিএস ম্যাপ ও কিউআরটি-র (ক্যুইক রেসপন্স টিম) মাধ্যমে প্রতিটি বুথের উপরে কড়া নজর থাকবে কমিশনের। সঙ্কীর্ণ এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোটরবাইক নিয়ে টহল দেবে।
প্রসঙ্গত, মনোজ আগরওয়ালের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল কালনার মহকুমাশাসক হিসেবে। সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, 'কালনার প্রতি আমার একটা আলাদা টান আছে। আজ ভোটারদের দুয়ারে এসে তাঁদের সচেতনতা দেখে খুব ভালো লাগছে।'
এ দিন সিইও-র সফর শুরু হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে। বেলা ১০টা নাগাদ কাকদ্বীপ মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন তিনি। বৈঠকে ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক, সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার-সহ নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এর পরে এলাকার সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন। বৈঠক শেষে মনোজ আগরওয়াল জানান, কাকদ্বীপ এলাকায় সাধারণত ৭০ থেকে ৮২ শতাংশ ভোট পড়ে। এ বার সেই লক্ষ্যমাত্রা ৯০ শতাংশের উপরে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।