• পর্যটন কেন্দ্রে এখন বালির কারবার! রণডিহার দখল নিয়ে ভোটযুদ্ধে সরগরম গলসি
    এই সময় | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সঞ্জয় দে

    পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের গলসি বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার রণডিহা এখন সেখানকার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। এক সময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রণডিহার নামডাক থাকলেও বর্তমানে সেই ছবি বদলে গিয়েছে। পর্যটকরা এখন আর দামোদরের বাঁধ বা ভরতপুরের বৌদ্ধস্তূপ দেখতে আগের মতো যান না। তার বদলে এই জায়গা এখন বালি পাচারের কেন্দ্র হিসেবে বেশি পরিচিতি পেয়েছে। ২০১৬ সালে ডিপিআর (ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট) জমা হয়েছিল জেলাশাসকের দপ্তরে। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। সরকারি লজগুলো এখন খালি পড়ে রয়েছে। এই আবহে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে রণডিহার বেহাল দশা এবং বালি পাচার সবথেকে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথেচ্ছ ভাবে দামোদর নদ থেকে বালি তুলে পাচার করা হচ্ছে। প্রতিদিন ট্র্যাক্টরে করে বালি তুলে এনে বিভিন্ন জায়গায় জমা করে রাতের অন্ধকারে ট্রাকে করে তা সরানো হয়। বালি বোঝাই গাড়ির চাপে গ্রামের রাস্তাগুলোর অবস্থা এখন অত্যন্ত শোচনীয়।

    গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তৃণমূলের একাংশের মদতেই এই কারবার রমরমিয়ে চলছে। এমনকী স্থানীয় চাকতেঁতুল পঞ্চায়েত প্রধান অনুপ মেটের বিরুদ্ধেও বালি পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বালি খাদানে অভিযানের সময় পুলিশকে হেনস্থা করার অভিযোগ অনুপ মেটের ভাইকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। অনুপ মেটে অবশ্য জানিয়েছেন ‘ভাইয়ের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। পরিবার নিয়ে আলাদা থাকে। বালি পাচারের অভিযোগ কি শুধু শাসক দলের বিরুদ্ধে? বিজেপি কর্মীরাও যুক্ত আছে।’

    গলসি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র। তিনি বলেন ‘বালি পাচারের সঙ্গে বিজেপির কোনও কর্মী যুক্ত নেই। আমরা ক্ষমতায় আসার পরে বালি কারবার বন্ধ করব। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রণডিহার পুরোনো গৌরব পুনরুদ্ধার করব।’

    বালি কারবার নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তৃণমূল প্রার্থী অলোক মাঝি। তিনি বলেন ‘পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে রণডিহাকে সাজিয়ে তোলার জন্য ২০১৬ সালে একটি ডিপিআর করে তৎকালিন জেলা শাসক সৌমিত্র মোহনের কাছে জমা করেছিলাম। পুনরায় বিধায়ক হলে রণডিহাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সুন্দর ভাবে সাজানো হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)