• ফের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এ রাজ্যে আসব: মোদি
    আজকাল | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার রাজ্যপাটে বদল হচ্ছেই। আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী। সোমবার ব্যারাকপুরে নির্বাচনী জনসভায় নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন যে, বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে পরবর্তী সরকার গঠন করবে বিজেপি। সেই প্রেক্ষিতেই তিনি জোর দিয়ে বলেন, ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি ফের এ রাজ্যে আসবেন।

    দ্বিতীয় দফার ভোটের শেষ দিনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। 'সিন্ডিকেট রাজ', রাজনৈতিক হিংসা এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক অধঃপতনের জন্য তিনি তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে আমি মানুষের যে মেজাজ বা মনোভাব অনুভব করেছি, তা দেখে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, ৪ মে-র পর বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমাকে আবারও এখানে আসতে হবে।" তাঁর এই মন্তব্যে জনসভায় উপস্থিত জনতা প্রবল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

    ব্যারাকপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "১৮৫৭ সালের ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামে এই মাটি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আর এখন এই মাটিই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।" মোদির কথায়, ভারতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, "দেশের ভবিষ্যতের জন্য পূর্বাঞ্চলের উত্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের সেবা করা, একে সুরক্ষিত রাখা এবং রক্ষা করাই হল আমার কর্তৃব্য ও দায়িত্ব।"

    প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে বিজেপির সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, "ওড়িশা ও বিহারের পর, এবার পশ্চিমবঙ্গেও পদ্ম ফুটবে।" তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রতিষ্ঠার মূল মন্ত্র,'মা, মাটি, মানুষ'-এর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তাদের কোনও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। 

    মোদি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও ভিশন নেই। একদিকে কল-কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর অন্যদিকে গড়ে উঠছে বেআইনি বোমা তৈরির কারখানা। সেখানে গুন্ডাদের নিয়োগ করা হচ্ছে এবং তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে।" 

    জনসভা থেকে ভোটারদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, তারা যেন এই তথাকথিত "সিন্ডিকেট রাজ"-কে পরাজিত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে। বলেন, "কেবল গালিগালাজ করা, হুমকি দেওয়া এবং মিথ্যাচার ছড়ানোই তৃণমূলের একমাত্র কৌশল বলে মনে হচ্ছে। এই দলের নেতৃত্ব আমাকে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবং এমনকি সশস্ত্র বাহিনীকেও অবমাননাকর মন্তব্য করেছে।"

     
  • Link to this news (আজকাল)