ভোজ্য তেলেরও দাম বাড়তে পারে, বাংলার কী পরিস্থিতি? খোঁজ নিল bangla.aajtak.in
আজ তক | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
বায়োফুয়েল বা জৈব জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বিশ্বের একাধিক দেশ। এর জেরে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের উপরে বাড়ছে চাপ। কারণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ভোজ্যতেল উৎপাদন সামগ্রীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার হচ্ছে জ্বালানি খাতে। ফলে খাবারের জন্য কমে যাচ্ছে ভোজ্য তেলের পরিমাণ।
ইকোনমিকসের ভাষায় বাজারে যখন কোনও জিনিসের প্রাপ্যতা কমে যায় এবং মানুষের মধ্যে চাহিদা বাড়তে থাকে, তখন সেই জিনিসটির দাম লাফিয়ে বাড়ে। এবার ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রেও তেমনই দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
ভারত ভোজ্য তেলের বিষয়ে আমদানির উপর নির্ভরশীল
ভারত ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে অনেকাংশে আমদানি নির্ভর। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ ভোজ্য তেল আমদানি করা হয় বিভিন্ন দেশ থেকে। এই আমদানির পরিমাণও ধীরে ধীরে বাড়ছে। নভেম্বর মাসের পর থেকে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত তেল আমদানির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।
Solvent Extractors' Association -এর ইডি বিভি মেহতা একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্য়মে জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২৭৩ মিলিয়ন টন ভেজিটেবিল তেল উৎপাদিত হয়। এরমধ্যে প্রায় ৬৭ মিলিয়ন টন ব্যবহার হচ্ছে বায়োডিজেল হিসেবে। এরফলে বাজারে দেখা যাচ্ছে সঙ্কট। চাহিদা বার্ষিক ২-৩ শতাংশ হারে বাড়ছে, অথচ সরবরাহ সেই হারে বাড়ছে না।
বাজারে এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে ভেজিটেবিল অয়েল বা ভোজ্য তেলের দামও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভি মেহতা। তিনি জানান, ভারত প্রতি বছর প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ টন পাম তেল আমদানি করে, যদিও সয়াবিন এবং সূর্যমুখীর মতো অন্যান্য তেলের সঙ্গে দামের সমতার উপর নির্ভর করে এর পরিমাণে তারতম্য ঘটে। বাজারে প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় ভোজ্য তেলের দামে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিভি মেহতা।
বাংলায় কী পরিস্থিতি?
পোস্তা মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ আগরওয়াল বিষয়টি নিয়ে bangla.aajtak.in -কে জানান, "ভোজ্য তেলের উৎপাদন সামগ্রী দিয়ে বায়োফুয়েল তৈরি করা হচ্ছে। তবে এর কোনও প্রভাব এখনই কলকাতা বা রাজ্যের বাজারে নেই। তিনি জানান, আজ পোস্তায় সরষের তেলের পাইকারি দর রয়েছে ১৭৬ টাকা প্রতি লিটার। অন্যদিকে, সাদা তেলের রেট রয়েছে লিটার প্রতি ১৪০-১৪৫ টাকার মধ্যে।"