হুগলির গোঘাটে জখম হলেন মিতালি বাগ, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
হুগলির গোঘাটে আক্রান্ত হলেন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। সোমবার দুপুরে তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনায় তিনি আহত হন এবং তাঁকে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ কমিশনের। এফআইআর দায়ের করে আগামী ৫ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিইও মনোজকুমার আগরওয়ালের। আক্রান্ত সাংসদকে দেখতে হাসপাতালে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ পাল্টা দাবি করেন, তাঁদের প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের সমর্থনে প্রচার চলাকালীন তৃণমূলের কর্মীরাই হামলা চালায়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল নেতা সঞ্জয় খানের নেতৃত্বে লাঠি, ইট, রড এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ করা হয়। এতে বহু কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। হাসপাতালে ২০ জন ভর্তি। মোট ৫০ জন আহত। বিজেপির প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, এই ঘটনাকে আড়াল করতেই মিতালি বাগ ‘নাটক’ করছেন।
ঘটনার সময় মিতালি যাচ্ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে। সেই সময় গোঘাটে তাঁর গাড়ির উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। তিনি সমাজ মাধ্যমে লাইভ করে ঘটনার বিবরণ দেন। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে আরামবাগের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সেই সময় গোঘাটে বিজেপির দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ির উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘একজন মহিলার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে। ভোট শুরুর আগেই এই সন্ত্রাস চলছে।‘
তাঁর অভিযোগ, গাড়ির কাচ ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই কাচের টুকরোয় তিনি আহত হন। তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের কার্যালয়ের সামনে গাড়ি আটকে হামলা চালানো হয় এবং তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। মিতালি বলেন, ‘গোঘাট, আরামবাগের মানুষকে বলব, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, কী ভাবে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে। যে ভাবে মহিলাদের নির্যাতন করা হচ্ছে, মা-বোনেদের অনুরোধ আপনারা একজোট হয়ে ব্যালটে ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন যে, মা-মাটি-মানুষের দল পিছোতে জানে না। তৃণমূল হার মানতে জানে না।’
ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ মিতালি। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের নির্দেশেই তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান, গণতান্ত্রিক উপায়ে এর জবাব দিতে এবং তৃণমূলের পাশে থাকার আহ্বান জানান। মিতালি বাগ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন, তুমি আরামবাগে এসে বলে গিয়েছ তৃণমূলের সমস্ত নেতা-কর্মীকে ধরে ধরে গ্রেফতার করতে হবে। নির্বাচন কমিশন, এর দায় তোমাকে নিতে হবে। আমার গোটা শরীরে কাচ ফুটে ভর্তি হয়ে রয়েছে। এ ভাবে গোঘাট, আরামবাগের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে।’
তৃণমূল সাংসদ আরও বলেন, ‘আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল।’ তিনি হুঁশিয়ারি দেন, তৃণমূল কোনও ভাবেই হার মানবে না। এর পরই তিনি চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন তুমি কি দেখতে পাচ্ছ, কী ভাবে এক জন মহিলার উপর নির্যাতন করা হল। নির্বাচন কমিশন তোমাদের এর জবাবদিহি করতে হবে।’