• নীল ড্রাম কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি, এবার স্ত্রীকে খুন করে সিমেন্টের বাক্সে দেহ লুকলো স্বামী! সঙ্গে চাঞ্চল্যকর চিরকুট
    প্রতিদিন | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • স্ত্রীকে খুন করে দেহ সিমেন্ট ভর্তি কাঠের বাক্সে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গুজরাটের সুরাটে এই খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। খুনের পরে পুলিশের কাছে গিয়ে স্ত্রীর নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরিও করেছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, তিনি নিজেই তাঁর স্ত্রীকে খুন করে দেহ লুকিয়ে রেখেছেন। বর্তমানে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। দম্পতির বাড়ি থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেই চিরকুট উদ্ধারের পরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।

    মৃতের নাম শিলপা সালভি (৩৯)। তিনি একজন ডায়েটিশিয়ান। তাঁর স্বামী ৪০ বছর বয়সি বিশাল সালভি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, চারদিন আগে শেষবার তাঁর স্ত্রীকে দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। এই অভিযোগ পেয়ে নিয়মমাফিক নিখোঁজের তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে দম্পতির বাড়ি থেকে একটি হাতে লেখা নোট উদ্ধার করা হয়। নোটটি তাঁদের নাবালক ছেলে খুঁজে পেয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মনে করা হচ্ছে, বিশাল ওই নোটটি লিখেছেন। যেখানে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি একটি গুরুতর ভুল করেছেন। তাঁর স্ত্রী শিলপা আর বেঁচে নেই। এরপরই একটি খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

    তদন্তের সময় পুলিশ সালাবতপুরা থানা এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির খোঁজ পায়। তালা ভেঙে সেই বাড়িতে ঢুকতেই তীব্র দুর্গন্ধ পান পুলিশকর্মীরা। এরপর ওই বাড়ির একটি কাঠের বাক্স থেকে নিখোঁজ মহিলার পচাগলা দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল। প্রাথমিক অনুমান, নিখোঁজ ডায়েরি করার চার থেকে পাঁচ দিন আগে খুন করা হয়েছিল।

    পুলিশ আধিকারিক কানন দেশাই জানান, দম্পতির বাড়ি থেকে নোটটি উদ্ধার হওয়ার পরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য় পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ফরেনসিক দল তদন্তে সহযোগিতা করছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। স্ত্রী পরকীয়া করছে বলে সন্দেহ করতেন অভিযুক্ত। এই কারণে খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশের।

    উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের মিরাঠে স্বামীকে খুন করে মৃতদেহ ড্রামে ভরে রেখেছিল স্ত্রী ও তার প্রেমিক। শুধু তাই নয়, কেউ যাতে কিচ্ছু টের না পায়, সেজন্য ড্রামের মুখ সিমেন্ট দিয়েও বন্ধ করে দেওয়া হয়! সৌরভের ছোট্ট কন্যার দৌলতে পুলিশ ঘটনার কথা জানতে পেরে মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল। গ্রেপ্তার হয়েছিল ওই তরুণী ও তাঁর প্রেমিক। সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হল গুজরাটে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)