• ‘পরিণীতির সঙ্গে ওঁর বিয়েটাও হত না’, ‘অকৃতজ্ঞ’ রাঘবকে অতীত মনে করাল আপ
    প্রতিদিন | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • আম আদমি পার্টিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়ে বিজেপির নৌকায় উঠেছেন রাঘব চাড্ডা। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন দলের আরও ৬ সাংসদকে। এই ঘটনায় ‘বিশ্বাসঘাতক’ রাঘবের নিন্দায় মুখর জাতীয় রাজনীতি। সমালোচনার মুখে পড়ে আপকে দুষে এক ভিডিও পোস্ট করেছেন রাঘব। এর পালটা ‘গদ্দারের’ মুখোশ খুলতে তৎপর হল আপ। শুধু তাই নয়, অতীত মনে করিয়ে রাঘব-পরিণীতির বিয়ের কৃতিত্বও নিল আম আদমি পার্টি। দলের শীর্ষ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ জানালেন, দল ওঁকে সাংসদ না করলে পরিণীতির সঙ্গে ওঁর বিয়েটাও হত না।

    রাঘবের ভিডিও বার্তার পালটা সোমবার সোশাল মিডিয়ায় এক ভিডিও পোস্ট করে দিল্লির আপ সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ। তিনি বলেন, “দল ভাঙার জন্য বিজেপির সঙ্গে মিলে দীর্ঘ ষড়যন্ত্র করেছিলেন রাঘব। স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে বিমানবন্দরে সস্তা সিঙ্গারা, রিচার্জের নিয়ম এবং গিগ কর্মীদের সমস্যা তুলে ধরেন তিনি। এই কাজে বিজেপি ওঁকে সাহায্য করেছিল। রাঘবের ভাষণের পর অবিলম্বে ব্যবস্থাও নেয় সরকার। পুরোটাই ছিল আঁতাত। এরপরই পরিণীতির সঙ্গে রাঘবের বিয়ের কৃতিত্ব নিয়ে সৌরভ বলেন, দলের কারণেই ওঁদের বিয়েটা হয়েছিল।

    সৌরভ বলেন, “যদি দলত্যাগই উদ্দেশ্য হত, তবে এমনিই ছেড়ে দিতেন। রাজনীতি থেকে সরে যেতে পারতেন, কেউ আপনাকে গালি দিত না। আপনাকে গালি দেওয়া হচ্ছে কারণ আপনি আপনার সেই দল ছেড়েছেন যে আপনাকে সবকিছু দিয়েছে। আজ আপনি বিয়ে করতে পেরেছেন, তার কারণ আপনাকে রাজ্যসভার সদস্য করা হয়েছিল, নইলে কেউ আপনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিত না। আপনি দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে পুরো দল ভেঙেছেন।”

    উল্লেখ্য, সোমবার সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন প্রাক্তন আপ সাংসদ। সেখানে তিনি বলেন, “আপ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে। দলটি আর আগের মতো নেই। আপ এখন বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। এখানে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়। সংসদে কথা বলতে দেওয়া হয় না।” তিনি আরও বলেন, “জীবনের ১৫ বছর আপে বিনিয়োগ করেছি।” নিজেকে আপের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে বর্ণনা করে বলেন, “আমি আমার ভবিষ্যৎ গড়তে রাজনীতিতে আসিনি। গত ১৫ বছর ধরে রক্ত, ঘাম দিয়ে দলের জন্য পরিশ্রম করেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলে নিজেকে বেমানান মনে হচ্ছিল।” রাঘবের আরও বলেন, “আমার এই সিদ্ধান্ত কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একসঙ্গে সাত জন আপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। একজন, দু’জন ভুল করতে পারেন। কিন্তু সাতজন ভুল করতে পারেন না।” চূড়ান্ত হতাশা, মোহভঙ্গ এবং বিতৃষ্ণার কারণে এই দলত্যাগ বলে দাবি রাঘবের।

    রাঘব ও পরিণীতির বিয়ে হয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বিয়ের পর এক টিভিশোতে এসেছিল এই নবদম্পতি। সেই ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হচ্ছে সোশাল মিডিয়ায়। যেখানে রাঘব বলেন, প্রথম সাক্ষাতের পর রাঘব সম্পর্কে জানতে গুগলের সাহায্য নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। রাঘবের বয়স, তিনি বিবাহিত কিনা এইসব তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি একজন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব কী, সেটাও গুগলে খুঁজেছিলেন পরিণীতা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)