• ‘সুপ্রিম’ নির্দেশে তৎপর পুলিশ, দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে ‘ট্রাবল মঙ্গার’দের গ্রেপ্তারি ছাড়াল দেড় হাজার!
    প্রতিদিন | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রথম দফা কেটেছে নির্বিঘ্নে। দ্বিতীয় দফা ভোটের প্রাক্কালে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিল পুলিশ প্রশাসন। জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টায় জোরদার অপারেশন ও নাকা তল্লাশি চালিয়ে মোট ১০৯৫ জন ‘ট্রাবল মঙ্গার’ বা ‘দাগি’ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪৩। জেলা ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে। সেখানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৭৯ জনকে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই উত্তর ২৪ পরগনা, যেখানে পুলিশের জালে ৩১৯ জন। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৪৬ জনকে। এছাড়া কলকাতা উত্তরে ১০৯ জন, হুগলিতে ৪৯ জন, নদিয়ায় ৩২ জন এবং হাওড়ায় ৩২ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যদিও এসব গ্রেপ্তারি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার। তাঁর অভিযোগ, কোথাও কোথাও শুধুমাত্র পুলিশ পর্যবেক্ষকদের কথা শুনেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা নির্বাচনী বিধিভঙ্গ।

    নির্বাচন কমিশনের দেওয়া গ্রেপ্তারির তালিকায় রয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলরও। পূর্ব বর্ধমানের কাউন্সিলর নারু ভগতও গ্রেপ্তার হয়েছে। এনিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। কোন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার ধরা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে রাজ্য জুড়ে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। পুলিশ কর্তাদের বক্তব্য, ভোটারদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

    অন্যদিকে, আগেই তৃণমূল অভিযোগ তুলেছিল, কর্মী-সমর্থকদের ‘দাগি’ তকমা দিয়ে ভোটের মুখে গারদে ভরার পরিকল্পনা করছে কমিশন ও পুলিশ। এনিয়ে হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়েছে। এবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারের অভিযোগ, পাঁচশোর বেশি গ্রেপ্তারি হয়েছে শুধুমাত্র পুলিশ পর্যবেক্ষকদের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে। এটা নির্বাচন কমিশনের ফৌজদারি বিধিভঙ্গ। প্রাক্তন পুলিশকর্তা হিসেবে রাজীব কুমারের মত, ভোটের সময় এই গ্রেপ্তারি অনেক বেশি নিয়ম মেনে হওয়া উচিত। তাদের মামলা ধরে ধরে চার্জশিট তৈরির পরই আদালতে পেশ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। তাঁর আরও অভিযোগ, সীমান্ত কোনও নিরাপত্তা নেই, বরং তৃণমূলের প্রতি নেতা, কর্মীদের উপর যত নজরদারি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)