• ‘সন্তান হওয়ার পরে বলছেন ধর্ষণ!’ লিভ-ইন নিয়ে সুপ্রিম সতর্কবার্তা
    এই সময় | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • লিভ-ইন সম্পর্ক বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরেই পুরুষ সঙ্গীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের ওই সম্পর্কে থাকা মহিলার। গত কয়েক বছরে এই ধরনের মামলা একটা প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার এই ভয়ঙ্কর প্রবণতার প্রেক্ষিতে তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার, এই ধরনের এক মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত সাফ জানায়, লিভ-ইন সম্পর্কে কিছু অন্তর্নিহিত আইনি ঝুঁকি থেকেই যায়। বৈবাহিক সম্পর্কে যে সকল আইনি সুরক্ষা থাকে, তা লিভ-ইন সম্পর্কে থাকে না।

    এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক মহিলা। ‘Live Law’ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিচারপতি বি ভি নাগরত্না এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।

    আবেদনকারিণীর বক্তব্য শোনার পরে বিস্মিত বিচারপতি নাগরত্না বলেন, ‘এটি একটি লিভ-ইন সম্পর্ক। ওই মহিলা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে থেকে ওই ব্যক্তির সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এবং এখন তিনি ধর্ষণ ও হামলার অভিযোগ করছেন। এটা কী ধরনের কথা?’

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদি সম্পর্কে দু’জনের সম্মতি থাকে, তবে সেখানে অপরাধের প্রশ্নই ওঠে না। বিচারপতি নাগরত্না বলেন, ‘লিভ-ইন সম্পর্কে ঠিক এটাই ঘটে। বছরের পর বছর তারা একসঙ্গে থাকেন। আর ব্রেকআপ হলে, মহিলা তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের এগুলোই হলো অনিশ্চয়তা।’

    আদালত আরও জানায়, যদি তাদের আইনি মতে বিয়ে হতো, তবে মহিলা স্বামীর বিরুদ্ধে দুইবার বিয়ে করার অভিযোগে বা খোরপোশে দাবিতে মামলা করতে পারতেন। কিন্তু লিভ-ইন সম্পর্কে সেই আইনি রক্ষাকবচ থাকে না। যে কোনও দিন যে কেউ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে পারে, সেই স্বাধীনতা থাকে।

    মহিলার আইনজীবী দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের প্রথম বিয়ের কথা লুকিয়ে প্রতারণা করেছেন। এর জবাবে আদালত জানায়, বোকামির জন্য মহিলার প্রতি তাঁদের সহানুভূতি থাকলেও আইনের চোখে এতে কোনও অপরাধ নেই।

    তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, লিভ-ইন সম্পর্কের কোনও আইনি বৈধতা না থাকলেও ‘সন্তান কখনও অবৈধ হতে পারে না’। ফলে তাঁদের সন্তানের জন্য অবশ্যই অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে খোরপোশ দাবি করার আইনি অধিকার রয়েছে মহিলার।

  • Link to this news (এই সময়)