নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী, প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ আনলেন ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম। ইডির একটি কেসের চার্জশিটে রাজেশ কুমারের নাম থাকায় তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং প্রার্থী হয়েছেন বলে দাবি করেন সোমনাথ। পাল্টা বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার বলেন, ‘উনি যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, সেখানে ওঁর স্ত্রীর সম্পত্তি ৬০ মাসে ৬০ গুণ হয়েছে, সেটার জবাব ওঁকে দিতে হবে।’ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন বিজেপি প্রার্থী।
সোমবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন জগদ্দলের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম। সেখানেই বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সোমনাথ জানান, ২০২৫ সালে নভেম্বর মাসে একটি কোম্পানির এক প্রোমোটারকে গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই কোম্পানি থেকে সব মিলিয়ে ১৩০ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সেই টাকা বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমারের অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল বলেও দাবি সোমনাথের। যে ব্যক্তিকে ইডি গ্রেপ্তার করেছিল, তিনি বেআইনি মাইনিং, বেআইনি ট্রান্সপোর্টেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় ইডি।
এর পরেই রাজেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সোমনাথ বলেন, ‘আমি ডকুমেন্ট-সহ এই অভিযোগ তুলে ধরছি। ৪২৭ পাতার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।…তাই তো রাজেশ কুমার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইডি ও সিবিআইয়ের থেকে বাঁচতে গিয়ে আমায় বিজেপি নামক ওয়াশিং মেশিনে ঢুকে যেতে হবে।’
সোমনাথ মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন দাবি করে পাল্টা রাজেশ কুমার বলেন, ‘কী করে জগদ্দলের বুকে কোনও প্ল্যান পাশ করতে গেলে ৩-৪ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়, কেন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাতে নাম নথিভুক্ত করতে গেলে ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে? কেন জল জীবন মিশনের কানেকশন পেতে গেলে ৮ হাজার টাকা দিতে হবে? কেন অটো-টোটো, দোকানদারদের মাসোয়ারা দিতে হবে?...এই প্রশ্নগুলির জবাব ওঁকে দিতে হবে।’ তৃণমূলকে আক্রমণ করে রাজেশ কুমার বলেন, ‘কাদের মাটির তলায় মাটি সরে গিয়েছে সেটা বোঝা যাচ্ছে। মানুষ সব বুঝছে। ৪ তারিখের পরে সেই উত্তর পেয়ে যাবে।’