গোপন রিপোর্টে কোন কোন আসন পেতে চলেছে সিপিএম? সৌজন্যের রাজনীতিতেই বা ফুল মার্কস পেলেন কে কে?
আজকাল | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথম দফার ভোট মিটতেই এখন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের অন্দরে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম বা পূর্ব মেদিনীপুর— প্রথম দফার ১৫২টি আসনে বামেদের ঝুলি শেষ পর্যন্ত কতটা ভরবে, তা নিয়ে রাজ্য সিপিএমের অন্দরে যেমন প্রত্যাশা আছে, তেমনই রয়েছে চোরা সংশয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনগুলোর মধ্যে তৃণমূল ৯২টি এবং বিজেপি ৫৯টি দখল করেছিল, যেখানে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রাপ্তি ছিল কার্যত শূন্য। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গত লোকসভা ভোটের নিরিখে কংগ্রেস ১১টি বিধানসভায় এগিয়ে থাকলেও এবার তারা বামেদের সঙ্গে নেই। ফলে একলা চলার নীতিতে বামেরা ঠিক কতটা জমি ফিরে পাবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। আলিমুদ্দিনের নির্দেশে নিচুতলার শাখা সংগঠনগুলো থেকে বুথভিত্তিক রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত আসা প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, 'শূন্যের গেরো' নিশ্চিতভাবে কাটছেই— এমন দাবি করার সময় বোধহয় এখনও আসেনি। তবে ভোট শতাংশের বিচারে এবার বামেরা 'ডবল ডিজিট' ছোঁবে বলে আশাবাদী নিচুতলার কর্মীরা। বিশেষ করে গ্রামবাংলার কিছু আসন এবং আইএসএফ-এর সমর্থনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভালো ফলের আশায় বুক বাঁধছেন নেতৃত্ব।
এবারের নির্বাচনে বামেদের প্রচারে এক আমূল পরিবর্তন চোখে পড়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের চেনা সেই শহুরে ‘বিশুদ্ধ’ বামপন্থী প্রচারের খোলস ছেড়ে এবার জেলা স্তরে পার্টি অনেক বেশি বাস্তববাদী। এতদিন কমিউনিস্টদের প্রচারের ধরণ অনেকটা কলকাতা-কেন্দ্রিক হলেও, এবার মুর্শিদাবাদ, মালদহ বা উত্তর দিনাজপুরের কর্মীরা নিজস্ব বুদ্ধিতে এমন সব প্রচারের আঙ্গিক তৈরি করেছেন যা খোদ কলকাতার নেতাদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। গতানুগতিক গণসঙ্গীতের বদলে ‘পপুলার কালচার’ এবং ‘জেন জি’ বা নতুন প্রজন্মের ভাষাকে হাতিয়ার করে জনতাকে আকৃষ্ট করার এই চেষ্টা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতারই ফল। আলিমুদ্দিনের কর্তারা মনে করছেন, কলকাতা সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও প্রচারের এই আধুনিকীকরণ ভোটারদের মনে নতুন করে জায়গা করে নিতে সাহায্য করবে। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট, যেখানে হুগলি, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও যাদবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো রয়েছে। দুই দফা মিলিয়ে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি আসনকে পাখির চোখ করে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে দল।
ভোটের লড়াইয়ে জয়-পরাজয় তো থাকবেই, কিন্তু এই নির্বাচনী আবহে এক অন্যরকম সৌজন্যের নজির গড়েছেন পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত। আজকের বাংলার রাজনীতিতে যেখানে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কাদা ছোড়াছুড়ি আর গলা ফাটিয়ে চিৎকারের সংস্কৃতিই দস্তুর, সেখানে কলতান এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে যথেষ্ট উস্কানি থাকা সত্ত্বেও তাঁর কথায় বা আচরণে কখনও অসংযম দেখা যায়নি। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অনুরাগীদের তুষ্ট করতেও তিনি কখনও নিচু মানের শব্দ ব্যবহার করেননি। বিরামহীন কুৎসা আর অপসংস্কৃতির ভিড়ে তাঁর এই ধৈর্য এবং মার্জিত রুচি রাজনৈতিক বোদ্ধাদেরও অবাক করেছে। ফল যা-ই হোক না কেন, কলতানের এই ‘ভদ্রতা’ যে বাংলার হারানো রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে আরও একবার মনে করিয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন দেখার, গ্রামবাংলার নজর আর এই নতুন ধাঁচের প্রচারের ফসল বামেদের ভোটবাক্সে কতখানি অক্সিজেন জোগাতে পারে।