মিতালি উপর হামলায় হুঙ্কার অভিষেকের, ৪ তারিখ দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের হামলার ঘটনায় আরামবাগের মাটি থেকে গর্জে উঠলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির গোঘাটে তৃণমূল সাংসদের উপর হামলার ঘটনায় তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ৪ঠা জুন ভোটের ফল প্রকাশের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘড়ি ধরে ‘হিসেব’ বুঝে নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সভা থেকে অভিষেক বলেন, ‘আমি এখানে তৃণমূলের হয়ে ভোট চাইতে আসিনি। আমি আরামবাগবাসীকে অনুরোধ করব, ২০১১ সালে আরামবাগবাসী যে স্বাধীনতা পেয়েছিল, সে কথাটা মনে রেখে যেন তাঁরা ভোট দেবেন।’ একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘সিপিএম-র হার্মাদগুলি জার্সি বদলে, কাস্তে-হাতুড়ি-তারা ছেড়ে পদ্মের আশ্রয় নিয়েছে। সিপিএম-র হার্মাদ বিজেপির জল্লাদ হয়েছে।‘
মিতালি বাগের উপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক জানান, কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তা জানা আছে। তিনি প্রকাশ্য সভা থেকেই কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকি অভিযুক্তদেরও চিহ্নিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘কারা মিতালির উপর চড়াও হয়েছে আমরা সব জানি। সোমাশ্রী, ওর স্বামী, সৌমেন পাল, দোলন—ওরা সবাই যুক্ত। সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে বাকিদেরও খুঁজে বের করা হবে।‘ বিশেষ করে একজন তফসিলি মহিলা সাংসদের উপর হামলাকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন। ‘একজন তফসিলি মহিলার গায়ে যারা হাত দিয়েছে, তাদের বলছি—আরামবাগে ফল যাই হোক না কেন, ৪ তারিখ দুপুর ১২টার পর কোনও জল্লাদের কত ক্ষমতা তা আমি দেখে নেব।‘
সভা থেকে আরও একধাপ এগিয়ে আরামবাগকে আলাদা জেলা করার ঘোষণাও করেন তিনি। একইসঙ্গে কড়া সুরে বলেন, ‘৪ তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হোন, আরামবাগের স্টিয়ারিং আমার হাতে থাকবে… খেলা ওরা শুরু করেছে মিতালির উপর আক্রমণ করে। ৪ তারিখ ফিনিশিংটা আমি করব।’
সোমবার দুপুরে হুগলির গোঘাটে আক্রান্ত হন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ করা হয়। ঘটনায় সাংসদ আহত হন এবং তাঁকে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তৃণমূল। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন তিন বিজেপি কর্মী। তাঁরা হলেন সিন্টু সাঁতার, সনাতন সাঁতরা এবং রাজকুমার রায়। ঘটনার খবর পেয়ে ধনেখালিতে যাওয়ার পথে পথ পরিবর্তন করে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছন অভিষেক। যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
এদিন মিতালি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরই সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় গোঘাটে তাঁর গাড়ির উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে আরামবাগের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সেই সময় গোঘাটে বিজেপির দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ির উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘একজন মহিলার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে। ভোট শুরুর আগেই এই সন্ত্রাস চলছে।‘
তাঁর অভিযোগ, গাড়ির কাচ ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই কাচের টুকরোয় তিনি আহত হন। তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের কার্যালয়ের সামনে গাড়ি আটকে হামলা চালানো হয় এবং তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘গোঘাট, আরামবাগের মানুষকে বলব, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, কী ভাবে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে। যে ভাবে মহিলাদের নির্যাতন করা হচ্ছে, মা-বোনেদের অনুরোধ আপনারা একজোট হয়ে ব্যালটে ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন যে, মা-মাটি-মানুষের দল পিছোতে জানে না। তৃণমূল হার মানতে জানে না।’