• চাবাহারে যুদ্ধের ছায়া, আমেরিকা ও ইরানের সঙ্গে চলছে ত্রিমুখী আলোচনা, ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ মোডে নয়াদিল্লি
    এই সময় | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • একদিকে আমেরিকার (America) নিষেধাজ্ঞা। অন্য দিকে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (West Asia War)। ব্যাপক ফাঁপড়ে পড়েছে নয়াদিল্লি। গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) চাবাহার বন্দরে (Chabahar Port) ভারতের বিনিয়োগ এবং ব্যবহারের ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন কী হবে? এই নিয়ে সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমেরিকা এবং ইরান, দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চলছে।’ তবে আঞ্চলিক সংঘাত যে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, তাও মেনে নিয়েছেন তিনি।

    গত বছরের (২০২৫) সেপ্টেম্বরে ইরানের উপরে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চাবাহার বন্দর প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ভারতের উপরে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সেই নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়। তার পরে দিল্লিকে ছ’মাস সময় দেন তিনি। ট্রাম্পের সেই ‘ছাড়’-এর মেয়াদ ফুরিয়েছে গত রবিবার।

    এ দিন রণধীরের কাছে জানতে চাওয়া হয়, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে? তার উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, ‘এই নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এটা ঠিক যে সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি যেমন এগোবে, আমরা আপনাদের জানাতে থাকব।’

    ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তান-বালোচিস্তান অঞ্চলে রয়েছে চাবাহার বন্দর। কৌশলগত দিক থেকে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর নিয়ন্ত্রণ পেলে আফগানিস্তান, ইরান হয়ে রাশিয়া পর্যন্ত পুরো জলপথ চলে আসবে ভারতের হাতের মুঠোয়। পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে যাওয়া যাবে সহজে। ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক অঞ্চলের সঙ্গেও প্রধান সংযোগস্থল হয়ে উঠতে পারে চাবাহার।

    বাণিজ্যিক দিক থেকে দেখলে চাবাহার ভারতের তুরুপের তাস। আর তার জন্যই তেহরানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বন্দর প্রকল্পে কাজ করছে নয়াদিল্লি। বন্দর উন্নয়নে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দও করা হচ্ছিল। কিন্তু আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে গোটা প্রকল্পই এখন বিশ বাঁও জলে। চলতি বছরের বাজেটেও এই প্রকল্পের জন্য কোনও বরাদ্দ ঘোষণা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।

  • Link to this news (এই সময়)