• নিঃশর্ত নাগরিকত্বের কথা বলে নাম কেটেছে বিজেপি, মতুয়াদের নমো–গ্যারান্টি ‘প্রতারণা’, তোপ অভিষেকের
    এই সময় | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: নরেন্দ্র মোদী–অমিত শাহদের ‘গ্যারান্টি’ আসলে ‘প্রতারণা’ বলে তোপ দাগলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    প্রধানমন্ত্রী মোদী রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরের সভায় মতুয়াদের মন জয় করতে তাঁদের নাগরিকত্ব প্রদানের গ্যারান্টি দিয়েছেন। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন নমো। আর এক মতুয়া বলয় নদিয়ার রানাঘাটের সভায় অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছেন, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরেই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে মতুয়াদের। গেরুয়া শিবির এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফের মতুয়া সমাজের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করতে চাইছে বলে সোমবার অভিযোগ করলেন অভিষেক।

    তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এ দিন নদিয়ার হরিণঘাটার সভায় বলেন, ‘এখন নতুন করে নাগরিকত্বের অ্যাপ্লিকেশন জমা করতে গেলে বলছে, বাংলাদেশের (সে দেশে থাকার) নথি জমা দাও। পাসপোর্টের কপি দাও। নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে ঘোষণা করো। ভিসার কপি দাও। ২০১৯–এ এরা বলেছিল সিএএ করবে। আপনাদের (মতুয়া) নাগরিকত্ব দিয়েছে? পইপই করে তৃণমূল তাই বলছে, এদের থেকে বড় দু’নম্বরি দল সারা পৃথিবীতে নেই।’

    উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান–সহ মতুয়া বলয়ে প্রচুর মানুষের নাম স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনে (সার) কাটা গিয়েছে। যে মানুষ বছরের পর বছর বিভিন্ন ভোটে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন, আচমকা তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। মোদী–শাহ মতুয়াদের আশ্বস্ত করতে চাইলেও বঙ্গ বিজেপির নেতারা এতদিন কী বলছেন, ভোট প্রচারের শেষ বেলায় তা উদ্বাস্তু জনতাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘অসীম সরকার (বিজেপি বিধায়ক) বলেছেন, মতুয়ারা মরুক। আমার দেখার দরকার নেই। শান্তনু ঠাকুর (কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী) বলছেন, যদি ৫ লক্ষ নাম বাদ যায়, যাক। আমার দেখার দরকার নেই। এই মতুয়ারাই এক বুক আশা নিয়ে অসীম সরকার, শান্তনু ঠাকুরকে ভোট দিয়েছিলেন।’

    ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যে মতুয়ারা গেরুয়া শিবিরকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের সঙ্গে বিজেপি নেতারা ‘বেইমানি’, ‘গদ্দারি’ করেছেন বলে তৃণমূলের লোকসভার দলনেতার পর্যবেক্ষণ। ২০২৬–এর ভোটের আগে বিজেপি মতুয়া বলয়ে সিএএ–র মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন জমা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করলেও সেখানে চোখে পড়ার মতো সাড়া দেখতে পাওয়া যায়নি সাধারণ মানুষের তরফে। তৃণমূল নেতাদের একাংশের পর্যবেক্ষণ, ‘সার’ প্রক্রিয়ায় যে মতুয়াদের নাম কাটা গিয়েছে, তাঁদের বড় অংশই সিএএ–র মাধ্যমে নাগরিক হতে নারাজ। কারণ, এই প্রক্রিয়াতে যে ব্যক্তির কাছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড বা রেশন কার্ড রয়েছে, তাঁকে ঘোষণা করতে হবে, তিনি আদতে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। রাতারাতি তা হলে তিনি নিজেকে বিদেশি স্বীকার করে নেবেন। এই কারণে অভিষেক এ দিন বলেছেন, ‘যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, আমি কথা দিচ্ছি, আমাদের সরকার আপনাদের জন্য লড়াই করবে। তবে আপনাদেরও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে হরিণঘাটা, কল্যাণী, রানাঘাট, বনগাঁর মতো আসনগুলো থেকে আমাদের প্রার্থীরা জিততে পারেন।...যাঁরা আপনাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, তাঁদের গণতান্ত্রিক ভাবে জবাব দিন।’ অভিষেক আগেই ঘোষণা করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার এক মাসের মধ্যেই যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তো‍লার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাঁর সংযোজন, ‘আমি মোদীজির একটা কথার সঙ্গে একমত— তিনি বলেছেন ‘পাল্টানো দরকার’। আমিও হরিণঘাটায় দাঁড়িয়ে বলছি, ‘পাল্টানো দরকার, আর চাই না অসীম সরকার।’... তৃণমূল‌ কংগ্রেস জিতলে নো টেনশন, বিজেপি জিতলে ডিটেনশন।’ হরিণঘাটায় এতদিন বিজেপির বিধায়ক রয়েছেন। এই কেন্দ্র রানাঘাট ল‍োকসভার অন্তর্গত। রানাঘাটের সাংসদও বিজেপির। এই এলাকায় তাই কার্যত ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ রয়েছে বলে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি। জোড়াফুলের অভিযোগ, সেই ডাবল ইঞ্জিনের জমানাতেই বিপুল সংখ্যক মতুয়ার নাম বাদ গিয়েছে। সেই কারণে অভিষেক বলেছেন, ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের অভিজ্ঞতা কেমন? ওদের থেকে কিছু পেয়েছেন কি?’ সভায় উপস্থিত জনতা হাত নেড়ে নেতিবাচক উত্তর দিয়েছেন। যদিও রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, ‘৪ তারিখের পরেই এই সরকার প্রাক্তন হয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের নেতা–মন্ত্রীরা কে কী বলছেন, তা নিয়ে মানুষের আর কোনও আগ্রহ নেই। মানুষ জানেন, মতুয়াদের জন্য যা করার বিজেপিই করেছে।’

  • Link to this news (এই সময়)