• ‘শুধরে যান, না হলে কাঁদতে হবে’, হুঁশিয়ারি ‘দাবাং’ অজয়ের, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি’, পাল্টা হুঙ্কার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গিরের
    এই সময় | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • কেউ বলেন ‘দাবাং’। কেউ বলেন ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’। তাঁর নাম শুনলে নাকি নেতিয়ে পড়েন গুন্ডা, মস্তান, মাফিয়ারা। তিনি অজয় পাল শর্মা (IPS Ajay Pal Sharma)। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে যোগী রাজ্য থেকে তাঁকেই বাংলার ভোটের ময়দানে উড়িয়ে নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। আর এসেই ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির শেখকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অজয়। কোনও রাখঢাক না করে বলেছেন, ‘শুধরে যান, না হলে পরে কাঁদতে হবে।’ পাল্টা হুঙ্কার ছাড়লেন জাহাঙ্গিরও। সোমবার একটি সংবাদমাধ্যমকে তিন বলেন, ‘আমরা হলাম পুষ্পা। ঝুঁকেগা নেহি।’

    ভোট এলেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড়, ক্যানিং, মিনাখাঁ, বাসন্তীর মতো এলাকা। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বোমাবাজি খবরও পাওয়া যায় হামেশাই। কিন্তু ছাব্বিশে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। আর তার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো সংবেদনশীল এলাকার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে অজয়কে নিয়োগ করা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। বাংলায় পা রেখেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। এলাকায় ঘুরে ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাও বলছেন। প্রয়োজনে দিচ্ছেন হুঁশিয়ারিও।

    এ দিন সকাল থেকে একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় টহল দিচ্ছেন অজয়। গ্রামবাসীদের উদ্দেশে বলছেন, ‘কান খুলে শুনে রাখুন, বদমায়েশি করলে ছাড়ব না। খুব ভালো দাওয়াই দিয়ে দেব। যদি শুনি কেউ অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে, কাউকে হেনস্থা করছে, তা হলে ফল ভালো হবে না।’ নাম করে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরকেও হুঁশিয়ারি দেন অজয়। তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গিরের লোকেদেরও এই কথাটা ভালো করে বলে দেবেন। খবর পাচ্ছি, তাঁর লোকেরা ধমকাচ্ছেন। পরে কিন্তু কাঁদতে হবে।’

    এই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এ বার এই নিয়ে মুখ খুললেন জাহাঙ্গির নিজেই। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা হলাম পুষ্পা, ঝুঁকেগা নেহি। কে অজয় শর্মা পাল নাকি অজয় পাল শর্মা দেখার দরকার নেই। আমরা আইন মানি। মানুষের আইন মেনে চলি। মাথা নত করলে মানুষের কাছে করব। কোনও বিজেপির কাছে দালালের কাছে নয়।’

    অন্য দিকে, অজয়ের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে পোস্টিং, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। X হ্যান্ডলের একটি পোস্টে তারা লিখেছে, ‘২০২০ সালে রামপুরের এসপি থাকাকালীন অজয়ের বিরুদ্ধে নগদ টাকার বিনিময়ে পোস্টিং দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়াও অন্য মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্ক গোপন করে এক মহিলাকে বিয়ে করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।’ তৃণমূল কটাক্ষ করে লিখেছে, ‘এরকমই একজন অফিসারকে বাংলার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে বেছে নিয়েছে কমিশন।’ উল্লেখ্য, অজয় পাল শর্মা ২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। তাঁর ভাইরাল ভিডিয়ো নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি নির্বাচন কমিশন।

  • Link to this news (এই সময়)