• ইঞ্জিনিয়ারের মাথায় কাদাজল, মহারাষ্ট্রের মন্ত্রীকে এক মাসের কারাদণ্ড আদালতের, জেলযাত্রা কবে?
    এই সময় | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • মহারাষ্ট্রের বন্দর ও মৎস্য মন্ত্রী নীতিশ রানেকে (Nitish Rane) এক মাসের কারাদণ্ড (One Month Jail) দিল আদালত। ২০১৯ সালে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (NHAI) এক ইঞ্জিনিয়ারের গায়ে কাদাজল ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই মামলাতেই সোমবার নীতিশকে এক মাসের কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে সিন্ধুদূর্গ আদালত।

    ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালের ৪ জুলাই। অনুগামী-সমর্থকদের নিয়ে একটি ব্রিজ সংস্কারের কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন কঙ্কাভেলির বিধায়ক নীতেশ রানে। কিন্তু ব্রিজ এবং রাস্তায় খানাখন্দ দেখেই মেজাজ হারান তিনি। ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে শুরু হয় বাদানুবাদ। এক পর্যায়ে আচমকা ইঞ্জিনিয়ারের গায়ে বালতি ভর্তি কাদাজল ঢেলে দেন নীতিশ। এমন ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। পরে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। নীতিশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুরু হয় মামলা।

    ইঞ্জিনিয়ারের গায়ে কাদাজল ঢালার ঘটনায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয় সিন্ধুদূর্গ আদালতে। তাঁদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা, সরকারি কর্মীকে বাধা দেওয়া এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বেশিরভাগ অভিযোগ থেকেই বেকসুর খালাস পান রানে এবং অন্যরা। কিন্তু সরকারি কর্মীর সঙ্গে অপমানজনক আচরণ এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৫০৪ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় রানেকে।

    রায় ঘোষণার সময়ে অতিরিক্ত সেশনস জজ ভিএস দেশমুখ বলেন, ‘নীতিশ রানে জনসাধারণের সমস্যা নিয়ে আওয়াজ তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনও সরকারি কর্মীকে এ ভাবে প্রকাশ্যে আপমান করা তাঁর উচিত হয়নি।’ এই ঘটনাকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে উল্লেখ করেছে আদালত। দেশমুখের কথায়, ‘এই ধরনের ঘটনায় রাশ টানতে না পারলে সরকারি কর্মীরা মর্যাদার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।’ এর পরেই নীতিশকে এক মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত।

    তবে এখনই জেলে যেতে হচ্ছে না নীতিশকে। রায় ঘোষণার পরেই তাঁর সাজা স্থগিত করেছে আদালত, যাতে রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন। মামলায় বাকি ২৯ জন অভিযুক্তকেও খালাস করে দেওয়া হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)