এই সময়: সোনা পাপ্পুর রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত মামলায় তল্লাশিতে কলকাতার দুই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ টাকা নগদ, সোনার গয়না, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল এভিডেন্স বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রের খবর।
সোনা পাপ্পুর রিয়েল এস্টেট মামলার তদন্তে উঠে এসেছে জমি সংক্রান্ত দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ। অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার এক বিশাল এলাকা দাপিয়ে বেড়ান রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা প্রোমোটার সোনা পাপ্পু। জোর করে জমি নেওয়া, সেখানে ফ্ল্যাট তৈরি করে তা বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতারণা–সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে পাপ্পু ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। সেখানেই জড়িয়ে পড়েছে ওই দুই ব্যবসায়ীর নাম, যাঁদের আনন্দপুরের আরবানা এবং আলিপুরের বাড়িতে রবিবার তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, কোটি কোটি কালো টাকা সাদা করা, হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা পাচার, ভুয়ো সংস্থা তৈরি করে সেখানে টাকা সরানো–সহ বহু অভিযোগ উঠেছে পাপ্পু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ওই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।
ইতিমধ্যেই এই মামলায় জয় কামদার নামে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। তিনি এখন ইডি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের সূত্র ধরে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়ি ও ফ্ল্যাটেও অভিযান চালিয়েছে ইডি। ওই চ্যাটের সূত্র ধরেই আনন্দপুর ও আলিপুরে ব্যবসায়ীদের বাড়িতে তল্লাশি করা হয়। সোমবার প্রেস বিবৃতিতে ইডি–র দাবি, ওই ব্যবসায়ীরাও ‘প্রভাবশালী’–দের ঘনিষ্ঠ। ওই বিবৃতি অনুযায়ী, ব্যবসায়ী জয়ের সঙ্গে শান্তনু–সহ একাধিক পুলিশ কর্তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। জমি সংক্রান্ত মামলায় সুবিধে নিয়ে তার বদলে তাঁরা দামি উপহার দিতেন পুলিশের পরিবারকে।
অন্যদিকে, রেশন দুর্নীতিতে গম পাচার মামলায় শনিবার ইডি পশ্চিমবঙ্গ–সহ বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি করে মোট ১৮.৪ লক্ষ নগদ, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল এভিডেন্স বাজেয়াপ্ত করেছে। ১৭৫টি ট্রাক–সহ ৫১০১ মেট্রিক টন গম বাজেয়াপ্ত করা হয়। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থানায় করা একটি রেশন দুর্নীতি মামলার প্রেক্ষিতে এই তদন্তে নামে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা গরীবদের জন্য বরাদ্দ গম বাংলাদেশে পাচার করে দিত। গমের উৎস গোপন রাখতে, এফসিআই ও রাজ্য সরকারের ছাপ–যুক্ত আসল বস্তা বদলে নতুন বস্তা ব্যবহার করা হতো।
এই মামলায় এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও হাবরা এবং মুর্শিদাবাদে গত ১০ এপ্রিল তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৩০.৯ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই রেশন দুর্নীতিতেই এর আগে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী, এ বারের হাবরার তৃণমূলের প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান–সহ মোট ন’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে বার ৭৫ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। জ্যোতিপ্রিয় ও বাকিবুর দু’জনেই এখন জামিনে মুক্ত।