এই সময়: অস্বাভাবিক মৃত্যু হলো এক স্নাতকোত্তর নার্সিং পড়ুয়ার। মৃতার নাম রীতা দুলে (২৯)। তিনি বাঁকুড়ার বাসিন্দা ছিলেন। নিউ টাউনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্কুল অফ নার্সিংয়ের পোস্ট বেসিক বিএসসি কোর্সের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন রীতা। রবিবার তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
পড়ুয়ার মৃত্যুর খবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পৌঁছতেই ক্ষোভ ছড়ায়। একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অপমান, তাচ্ছিল্য ও বিদ্রুপ করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, তার পর থেকেই মুষড়ে পড়েন তরুণী। অবসাদগ্রস্তও হয়ে যান। সে কারণেই এটি আত্মহত্যা বলে সন্দেহ মৃতার সহপাঠীদের। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসে ভুল করার জেরে ওই ছাত্রীকে অপমানিত হতে হয় সকলের সামনে। গত ২০ এপ্রিলের সেই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল ওঠে একাধিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পড়ুয়াদের বক্তব্য, ওই শিক্ষকরা সকলের সঙ্গেই কমবেশি দুর্ব্যবহার করেন। অভিযোগ, অপমানিত হওয়ার পরেই চুপচাপ হয়ে যান ওই ছাত্রী। ফিরে যান বাঁকুড়ার বাড়িতে। আর সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং ক্যাম্পাসে। তার পরেই সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। কর্তৃপক্ষের কাছে ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান ছাত্রছাত্রীরা।
ঘটনার খবর শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যান নার্সদের সংগঠন নার্সেস ইউনিটির সদস্যরা। ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ভাস্বতী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা অভিযুক্তদের সাসপেন্ড করে নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানিয়েছি। বলেছি, কারও দোষ প্রমাণিত হলে যেন রেয়াত করা না হয়। অন্যথায় আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাব।' তিনি জানান, জিএনএম পাশ করার পরে কয়েক বছর চাকরিও করেছিলেন রীতা। পরে পোস্ট বেসিক বিএসসি নার্সিং পড়তে ঢোকেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুপম বসু এ দিন সন্ধ্যায় জানান, ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চার শিক্ষককে আপাতত অনির্দিষ্ট কালের জন্য কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানকারী দলে রয়েছেন এক জন কাউন্সেলরও। উপাচার্য জানান, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ে পাঠানো হবে শিক্ষকদেরও।