কেরালা জুড়ে মঙ্গলবার ১২ ঘণ্টার বনধ। কান্নুর ডেন্টাল কলেজের ছাত্র নিতিন রাজের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিচার চেয়ে এই বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। ৫২টি দলিত সংগঠনের ডাকা এই বনধে এ দিন ভোর থেকেই কার্যত স্তব্ধ কেরালার জন জীবন। ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই বনধ চলবে। তবে এই বনধ থেকে দুই চাকার গাড়ি এবং জরুরি পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, এ দিন সকাল থেকেই আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বেশ কিছু এলাকায় দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দেওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। কেরালার রাজধানী তিরুবনন্তপুরম এবং কান্নুর এলাকায় যানবাহন চলাচল প্রায় স্তব্ধ।
নিতিন রাজ ১০ এপ্রিল ডেন্টাল কলেজের একটি ভবন থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই পড়ুয়াকে তাঁর গায়ের রং এবং জাত নিয়ে হেনস্থা করা হয়েছিল। ঘটনায় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া ও তফশিলি জাতি-উপজাতি আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। নিতিনের পরিবারের লোকজন পুলিশের তদন্তে চরম গাফিলতির অভিযোগ করেছেন। যার জেরেই সেই রাজ্যের ৫২টি দলিত সংগঠন একত্রে এই বনধের ডাক দিয়েছে। তারা এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
কেরালার বেশ কয়েকটি দলিত সংগঠনের অভিযোগ, পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষকদের বাঁচাতে চাইছে। তাদের আরও দাবি, পুলিশ ইচ্ছে করেই তদন্তে দেরি করছে যাতে অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে যায়। পুলিশ ঘটনার মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, তদন্তের উপর তাদের কোনও আস্থা নেই বলেই প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।