• তৃণমূল ‘না করায়’ মাছের জাল পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ
    এই সময় | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, হলদিয়া: ভোটের আগে থেকেই ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ভোট শেষ হতেই বাস্তবে ঘটলও তাই। অভিযোগ উঠল কয়েক লাখ টাকা দামের মাছ ধরার জাল পুড়িয়ে দেওয়ার। জীবিকার সঙ্কটে অসহায় মৎস্যজীবী পরিবার। রবিবার গভীর রাতে নন্দীগ্রাম–২ নম্বর ব্লকের গোপালচক বাণীবিতান বুথ এলাকার ঘটনা। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। রাজ্যের অন্যতম হেভিওয়েট কেন্দ্রে ভোট পরবর্তী হিংসার এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

    জানা গিয়েছে, গোপালচক গ্রামের বাসিন্দা শঙ্কর খালুয়া পেশায় মৎস্যজীবী। দীর্ঘদিন নদীতে মাছ ধরার কাজ করছেন। এলাকায় বিজেপি সমর্থক হিসেবেও তিনি পরিচিত। ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁকে অনুরোধ করা হয়েছিল বলে দাবি শঙ্করের। কিন্তু তিনি রাজি হননি। তাঁর ভাই সুদর্শনও দল পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে দাদাকে বেশ কয়েকবার বুঝিয়েছেন। তবুও অনড় থেকেছেন শঙ্কর। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে সুদর্শনও বেশ কয়েকবার শঙ্করকে শাসিয়েছেন। ২৩ এপ্রিল প্রথম পর্বে ভোট হয়েছে এলাকায়। তার পরে গত ২৬ এপ্রিল রাতে শঙ্করের বাড়ির বাইরে রাখা বহুমূল্যের মাথ ধরার জালে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

    আগুনের ঘটনা প্রতিবেশীদের চোখে পড়ায় চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হলে ঘুম ভাঙে শঙ্করের। সবাই মিলে চেষ্টা করে আগুন নেভান। কিন্তু জাল আর বাঁচানো যায়নি। শঙ্করের অভিযোগ, ‘আমাকে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল করতে বলা হয়েছিল বারবার। আমার ভাইও বলেছে। তৃণমূল না করলে আমার চরম ক্ষতি হবে বলে ওরা হুমকি দিয়েছিল। আমি বিষয়টাকে তেমন গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু রবিবার রাতে আমার সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দামের মাছ ধরার জাল পুড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূলের লোকজন।’ যদিও সুদর্শনের দাবি, ‘রাতের অন্ধকারে কেউ বিড়ি খেয়ে ওই জালের উপরে ফেলে গিয়েছিল হয়তো। তার ফলেই যা হওয়ার তাই হয়েছে। তবে যেই করুক, এটা ঠিক করেনি। দুঃখজনক ঘটনা।’

    এই ঘটনায় এলাকায় বিজেপি এবং তৃণমূলের তরজা তুঙ্গে উঠেছে। নন্দীগ্রাম–২ ব্লক তৃণমূল কোর কমিটির সদস্য রবিন জানা বলেন, ‘প্রতিবেশীদের হিংসা থেকে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই।’ পাল্টা বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রলয় পাল বলেন, ‘তৃণমূল হাতে না মেরে, ভাতে মারার কৌশল নিয়েছে। গ্রামের একজন মৎস্যজীবী, নদীতে মাছ ধরে যাঁর সংসার চলে। তৃণমূল করছে না বলে তাঁর সম্পত্তি নষ্ট করা হলো। এমন ঘৃণ্য রাজনীতি তৃণমূলের পক্ষেই সম্ভব।’ সোমবার নন্দীগ্রাম থানায় অ্ভিযোগ দায়ের করেন শঙ্কর।

    ঘটনার পিছনে সুদর্শন খালুয়া প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ। এর আগেও পুকুরে বিষ ফেলে মাছ মেরে দেওয়া, ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে সুদর্শনের বিরুদ্ধে। শঙ্কর বলেন, ‘ভাইয়ের কথাবার্তা, আচার আচরণ সন্দেহজনক।’ অভিযোগ উড়িয়ে সুদর্শনের দাবি, ‘আমি তৃণমূল করি বলেই আমার বিরুদ্ধে এমন পরিকল্পিত ভাবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। দাদার সম্পত্তি নষ্ট করার কাজ করতে পারি না।’ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)