এই সময়, আউশগ্রাম: দু’টি ব্লক ও একটি পুরসভা নিয়ে গঠিত আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র। এ বছর এই কেন্দ্রে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন চার জন প্রার্থী। তৃণমূলের শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, বিজেপির কলিতা মাঝি, বামফ্রন্টের চঞ্চল মাঝি এবং কংগ্রেসের তাপস বড়াল। প্রত্যেকেই তুলে ধরেছেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। সঙ্গে বিজেপি, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের প্রার্থীরা দিয়েছেন পরিবর্তনের ডাক।
তৃণমূল প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি। রাজনৈতিক কাজের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা, এই দুইয়ের জোরে তিনি প্রচারে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত। বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝি, পেশায় পরিচারিকা। সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার বার্তা দিয়েই তিনি প্রচার চালিয়েছেন। গত বিধানসভা ভোটেও এই কেন্দ্র থেকে তিনিই বিজেপির হয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন। প্রতিযোগিতায় রয়েছেন বামফ্রন্টের প্রার্থী চঞ্চল মাঝি ও কংগ্রেস প্রার্থী তাপস বড়ালও। চঞ্চল পেশায় চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক, আর তাপস গুসকরা পুরসভার অস্থায়ী অ্যাম্বুল্যান্স চালক।
এবারের নির্বাচনে আউশগ্রাম বিধানসভায় একাধিক ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ। ভোটারদের মধ্যে গুসকরা শহরে একটি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল, আউশগ্রামে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম ও দমকল কেন্দ্র, বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের সমস্যার সমাধান এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আউশগ্রামকে আরও সাজিয়ে তোলার দাবি জোরালো হয়েছে। এর সঙ্গে এলাকায় একটি কোল্ড স্টোরেজ ও আইটিআই কলেজ গড়ে তোলা জরুরি বলেও ভোটাররা মনে করছেন। আবার দীর্ঘদিন ধরে বেহাল কিছু রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিকাশ বিশ্বাস, অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাধারণ ভোটাররা যেমন, তেমন লেখক রাধামাধব মণ্ডল ও শিক্ষক সুজিত চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিরাও একই সুরে জানালেন, আউশগ্রামে খেলাধূলা ও শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নত হলে আগামী প্রজন্মের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হবে। সেই দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এই সব আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারবেন বলে ভোটাররা কার উপরে বেশি ভরসা করছেন, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে পরের সপ্তাহের সোমবার পর্যন্ত।