• ভোট কাটাকাটির অঙ্কই বড় ‘ফ্যাক্টর’ কেতুগ্রামে
    এই সময় | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, কেতুগ্রাম: ভোটকাটাকাটি এবার বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে কেতুগ্রাম বিধানসভা এলাকায়। এই কেন্দ্রে একাধিক দল প্রার্থী দিলেও লড়াই মূলত তৃণমূল, বিজেপি ও আইএসএফ–এর মধ্যে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় একমাত্র এই কেন্দ্রেই এ বার বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফ। মনে করা হচ্ছে, আইএসএফ কতটা ভোট পাচ্ছে, তা বড় ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়াতে পারে এই কেন্দ্রে।

    এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে হুমায়ুন কবীরের দল এজেইউপি বা আমজনতা উন্নয়ন পার্টিও। কেতুগ্রাম সংখ্যালঘু–প্রধান ব্লক। সে দিক থেকে আইএসএফ ও এজেইউপি মিলে যদি তৃণমূলের ভোটে ভাগ বসায়, তা হলে শাসকদল বেকায়দায় পড়তে পারে বলে এলাকার প্রবীণ ভোটাররা অনেকেই মনে করছেন। তবে তাঁরা এ কথাও মানছেন যে, সারা বছর তৃণমূল কেতুগ্রামে মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। তা নিশ্চিত ভাবেই শাসকদলের ‘অ্যাডভ্যান্টেজ’।

    কেতুগ্রামে এ বার তৃণমূলের প্রার্থী তিন বারের বিধায়ক শেখ শাহনওয়াজ। বিজেপির হয়ে ফের লড়ছেন অনাদি ঘোষ। ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন আইএসএফ–এর জাকির গাইন, কংগ্রেসের শেখ আবু বক্কর ও এজেইউপি–র সাবিনা ইয়াসমিন। এলাকাবাসীর অনেকেই জানালেন, ভোট কাটাকাটি হলেও তৃণমূ‍লই এখানে জিতবে। পাল্টা মতও রয়েছে। বেশ কয়েক জন জানালেন, গেরুয়া শিবিরের একটা হাওয়া কিন্তু রয়েছে। আবার আইএসএফের প্রচারে ভিড় হয়েছে ভালোই। বরং সেই তু‍লনায় ভোটারদের মধ্যে এজেইউপি–কে নিয়ে আগ্রহ কম চোখে পড়েছে।

    ভোট কাটাকাটির এই অঙ্ক কষতে কষতে কেতুগ্রামের বাসিন্দারা নির্বাচনের পরে নিজেদের নানা সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছেন পাড়া বা চায়ের দোকানের আড্ডায়। যেমন, ভাগীরথীর ভাঙন কেতুগ্রামের বড় সমস্যা। পাশাপাশি উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিশুদ্ধ জল, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি চাইছেন জনগণ। এখানকার বাসিন্দা সোমনাথ ঘোষ, সঞ্জীব বিশ্বাসরা বললেন, ‘ভাগীরথী গিলতে আসছে আমাদের। এর স্থায়ী সমাধান করা হোক।’ আবার রহমত শেখ, মিলন শেখ, বিপ্লব বিশ্বাস, সুভাষ দাসরা বললেন, ‘দু’টি ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই আরও ভালো ডাক্তার আনা হোক, বেড বাড়ানো হোক।’

  • Link to this news (এই সময়)