এই সময় দিঘা: ব্যান পিরিয়ড শুরু হয়ে গিয়েছে। সমুদ্র ও নদীতে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাঙালির পাতে টান পড়েছে মাছের। শুধু মাছের ঘাটতি নয়, মাছের দামও চড়ছে বৈশাখে গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। মৎস্যদপ্তর ও দিঘা উপকূল এলাকার মৎস্যজীবীপা জানাচ্ছেন, ১৪ জুন থেকে মাছ ধরার মরশুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত মাছের জোগান বাড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
কাঁথি মৎস্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন হয়েছিল ৭৯ হাজার মেট্রিক টন। এখন ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান তৈরি না হলেও এই পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে কাঁথি মৎস্য দপ্তর। আর এই বিপুল পরিমাণ মাছের জোগানের ঘাটতির কারণে টান পড়েছে বাঙালির পাতে। আপাতত কোল্ড স্টোরেজ আর ওডিশা ও কেরল থকে আমদানি করা সামুদ্রিক মাছ দিয়ে বাঙালির প্রিয় মাছের জোগান ঠিক রাখার চেষ্টায় ব্যবসায়ীরা। তবে পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার মানুষ চালানি মাছের পরিবর্তে সমুদ্রের টাটকা মাছ খাওয়াই পছন্দ করেন। বর্তমানে সমুদ্রে ট্রলার, যন্ত্রচালিত ও হাতে টানা নৌকায় মাছ ধরা বন্ধ সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্য।
দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ শ্যামল বলেন, ‘ব্যান পিরিয়ডে অন্য রাজ্যে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের ব্যান পিরিয়ডের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হলেও এ রাজ্যে ছাড় দেওয়া হয় না। তার জন্য মৎস্যজীবীদের জীবিকার স্বার্থে সমুদ্রসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা এখনও এই প্রকল্পের সুবিধা পায়নি। আমরা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের জন্য ব্যান পিয়ডের সময়সীমা কমিয়ে ট্রলারগুলির ফিশিংয়ের উপরে ১২০ দিন ব্যানপিয়ডের দাবি জানিয়েছি। এতে মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি যেমন সঠিক ভাবে হবে। তেমনি বাজারে সামুদ্রিক মাছের জোগানও কিছুটা বাড়বে।’
রামনগরের বাসিন্দা সুকুমার পাল বলেন, ‘খুব অল্প পরিমাণে সামুদ্রিক মাছ পাওয়া গেলেও দাম আকাশছোঁয়া। রুলি, তাপড়ার মতো ছোট ছোট সামুদ্রিক মাছ বছরের অন্য সময় ৫০ টাকা থেকে ১০০টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। অথচ সেই মাছ এখন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা প্রতি কিলো বিক্রি হচ্ছে।’ কাঁথি এগরার বিভিন্ন মাছের বাজারে ওডিশার তালসারি, ধামরা এলাকার সামুদ্রিক চালানি মাছ পাওয়া গেলেও দাম অনেকটাই বেশি। বিয়ে ও অনান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্যে ময়নার ও অন্ধ্রের পোনা মাছের আর ইলিশ, পমফ্রেট, ভেকটির মতো মাছের জন্যে কোল্ডস্টোরের মাছের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে। এই প্রসঙ্গে কাঁথি মৎস্য দপ্তরের সহ মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক ) সুমন সাহা বলেন, ‘বাজারে মাছের ঘটতি থাকলেও ব্যান পিরিয়ডে যাতে সমুদ্র ও নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকে তার জন্যে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।’