প্রচারে বাংলায় 'পরিবর্তন' ডাক দিয়ে BJP-র নিজেদের যে ভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করল
আজ তক | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গে ৩০টি সভা করেছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আরও বেশি। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ভাঙিয়ে একাধিক নেতাকে বিজেপি-তে টানা হয়েছিল। সে বার স্লোগান ছিল, পরিবর্তন। কিন্তু রেজাল্টে দেখা গেল, বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই ভরসা রেখেছেন। ৭৭টি আসনে থামতে হয় বিজেপি-কে। বিজেপি-র ভোট শতাংশ ছিল ৩৮।
পরিবর্তন ১: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা নয়, নিশানায় তৃণমূলের সিস্টেম
২০২১ সালে বিজেপি প্রতিটি প্রচারেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রায় প্রতিটি সভাতেই নিয়ম করে 'দিদি, ও দিদি' বলেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মমতাকে সরাসরি নিশানার খেসারত দিতে হয়েছিল বিজেপি-কে। আবেগের ভোট গিয়েছিল মমতার দিকেই।
২০২৬ সালে বিজেপি প্রচারে পরিবর্তন আনল। সরাসরি তৃণমূলনেত্রীকে নিশানা না করে, তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতার ভাইপো তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টার্গেট করল। অমিত শাহ প্রায় সব সভাতেই দাবি করলেন, ফের তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিলে এবারে পশ্চিমবঙ্গে 'ভাইপো' মুখ্যমন্ত্রী হবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন।
পরিবর্তন ২: রাম থেকে মা কালী ও মাছ
পরিবর্তন ৩: বহিরাগত তকমা ঘোচাতে বাংলা ভাষা
তৃণমূল কংগ্রেসের একটা বড় অভিযোগ হল, বিজেপি নাকি 'বহিরাগত' দল, তারা বাংলাকে ঠিকভাবে বোঝে না। ২০২১ সালের ভোটে এই অভিযোগের জবাব দিতে বিজেপি তেমনভাবে সফল হয়নি। তবে ২০২৬-এর ভোটে ছবিটা একটু বদলাতে চাইছে বিজেপি। এবার তারা স্থানীয় সংযোগকে বেশি গুরুত্ব দিল। সেই জায়গায় সামনে আনা হয়েছে দলের বর্ষীয়ান নেত্রী ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে। পানিহাটির একটি সভায় তিনি সাবলীল বাংলায় কথা বলেন এবং নিজের সঙ্গে বাংলার সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'আমি বাগচী বাড়ির মেয়ে। তুমি বাংলা বলতে পারো, আমিও পারি। আমার দাদুর বাড়ি এখানে। এই দেশে জন্মেছি, তাহলে আমরা কী করে বাইরের লোক?'