মোদির ‘দেশবিরোধী’ মন্তব্যের সপাট জবাব, লালে লাল যাদবপুর! ‘শূন্য’ এবিভিপি
প্রতিদিন | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হুল ফোটাতে পারল না বিজেপি। আইসিসি নির্বাচনের ফলাফলই যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও দিলীপ ঘোষের বিতর্কিত, অপমানজনক মন্তব্যের সপাট জবাব দিয়ে দিল। বিধানসভা ভোটের আবহে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির (আইসিসি) নির্বাচনের ফল বেরতেই দেখা গেল বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপির ভাঁড়ার শূন্য। বরং লালের গরিমা বাড়ল। ফের লালে লাল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। জয়ের আনন্দে লাল আবির উড়িয়ে খেললেন ছাত্রছাত্রীরা। নিজেদের জমি কিছুটা শক্ত করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদও। আইসিসি নির্বাচনে স্নাতকোত্তর কলা বিভাগে দ্বিতীয় স্থানে তারা।
গত ৮ এবং ২১ এপ্রিল নির্বাচন হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের। বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে দু’টি ক্ষেত্রেই জয়লাভ করেছে ‘উই দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ (ডব্লুটিআই)। কলা বিভাগে দু’টি আসনে ক্ষমতায় এসেছেন এসএফআই প্রতিনিধিরা। ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের ক্ষেত্রে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে দু’টিতেই গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা জয়ী। তাঁরা হলেন স্নাতকে মেহুলি সরকার এবং স্নাতকোত্তরে খুরশিদা বানো।
গত সপ্তাহে নির্বাচনী প্রচারে বঙ্গে এসে প্রধানমন্ত্রী মোদি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বেশ আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, যাদবপুরের মতো নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হয়, পড়াশোনার পরিবেশ আর নেই। তাঁর সেই সুর ধরেই আরও একপ্রস্ত নিন্দায় মুখর হন দিলীপ ঘোষ। তিনি যাদবপুরকে ‘অসভ্যদের ফ্যাক্টরি’ বলেছিলেন। গত ৮ এবং ২১ এপ্রিল নির্বাচন হয় কলা ও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ও বিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়াদের। ফলাফলে যেন তারই জবাব মিলল। ভোটবাক্সে শূন্য পেল বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। উল্লেখ্য, দু’দিনই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে করানোটা চ্যালেঞ্জ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে। কারণ গত ফেব্রুয়ারিতে এই আইসিসি নির্বাচন ঘিরেই উত্তাল হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রদের বিবাদ থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হন দুই অধ্যাপক। তদন্ত কমিটি বসিয়ে অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে হয়। এরপর এপ্রিলে আইসিসি নির্বাচনে এমন ফলাফল।