নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ছেলের অনুপস্থিতিতে বউমাকে লাগাতার ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বারাসত আদালত। সোমবার এই রায় শোনান বারাসতের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক প্রজ্ঞাপারমিতা হোসেন। পাশাপাশি নির্যাতিতা পুত্রবধূকে ছ’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতা। সাজা প্রাপকের নাম জয়নাল মণ্ডল।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগরের মাগুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল মণ্ডল। তাঁর ছেলে পেশায় ফেরিওয়ালা। রোজ সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়তেন তিনি। বাড়িতে থাকতেন তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। একই বাড়িতে বসবাস করতেন শ্বশুর জয়নালও। অভিযোগ, ছেলের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পুত্রবধূকে একাধিকবার ধর্ষণ করতেন তিনি। নির্যাতিতা প্রথমে বিষয়টি স্বামীকে জানান। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও অভিযোগ করেন দম্পতি। তবে প্রথমে অভিযোগ মানতে চাননি পাড়ার বাসিন্দারা। পরবর্তীতে গ্রামে সালিশি সভা বসে। সেখানে অভিযুক্ত শ্বশুরকে ‘স্বামী’ হিসাবে মেনে নিয়ে সংসার করার নিদান দেওয়া হয় পুত্রবধূকে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করেন দম্পতি।
এরপরেই ওই দম্পতিকে ‘সামাজিক বয়কট’ করার অভিযোগ ওঠে। পাড়ার টিউবওয়েল থেকে জল নেওয়া, এমনকী স্থানীয় দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কার্যত একঘরে করে রাখা হয় তাঁদের। শেষমেশ শ্বশুরের কীর্তি প্রকাশ্যে আনার পরিকল্পনা করেন দম্পতি। ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল প্রতিদিনের মতোই কাজে বেরোনোর ভান করে বাড়ির পিছন দিক দিয়ে ফিরে এসে নিজের ঘরের চৌকির নীচে লুকিয়ে পড়েন নির্যাতিতার স্বামী। কিছুক্ষণের মধ্যেই জয়নাল পুত্রবধূকে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করলে হাতেনাতে ধরা পড়ে যান তিনি। সেইদিনই অশোকনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। অভিযোগের ভিত্তিতে জয়নাল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রায় তিন মাস জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। অভিযোগ, এরপর থেকে নির্যাতিতা ও তাঁর স্বামীকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন জয়নাল। পরে আদালতের নির্দেশে প্রায় তিন মাস আগে তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(২)(এফ) ধারায় মামলা রুজু হয় তাঁর বিরুদ্ধে। মামলার শুনানি চলে বারাসত আদালতে। সরকারি আইনজীবী তীর্থঙ্কর পাল বলেন, আদালত অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। সেই সঙ্গে নির্যাতিতা পুত্রবধূকে ৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রায় ঘোষণার পর নির্যাতিতা বলেন, মামলা করার পর থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে আমরা অসহায় অবস্থায় পড়েছিলাম। পুলিশ আমাদের মান-সম্মান রক্ষার জন্য গোপন জায়গায় রেখেছিল। আজকের রায়ে আমরা খুশি।