পুলিশ কর্মীরা নির্বাচনের ডিউটিতে, শূন্য হাওড়ার অধিকাংশ ট্রাফিক গার্ড, অচল সিগন্যাল, যানজটে নাকাল যাত্রীরা
বর্তমান | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভোটের ডিউটিতে ট্রাফিক কর্মী সরানোয় সোমবার সকাল থেকেই কার্যত অচল হয়ে পড়ল হাওড়া শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা। সাঁতরাগাছি মোড় থেকে নতুন রাস্তা, মল্লিক ফটক-হাওড়া ময়দান থেকে সালকিয়া চৌরাস্তা, মন্দিরতলা থেকে কাজিপাড়া মোড়— শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে দেখা গেল ট্রাফিক পুলিশের অনুপস্থিতি। কোথাও সিগন্যালের লাল-সবুজ বাতি নিভে শুধু হলুদ আলো টিমটিম করেছে, কোথাও আবার পুরো সিগন্যাল ব্যবস্থাই অচল। ফলে সকাল থেকেই বহু রাস্তায় তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট, ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ভোটের কাজের জন্য তিনদিন আগেই ট্রাফিক গার্ডগুলি থেকে অধিকাংশ আধিকারিক ও কনস্টেবলদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের আটটি ট্রাফিক গার্ডের মধ্যে হাওড়া, গোলাবাড়ি, দাশনগর ও বালি ট্রাফিক গার্ড শহরের ব্যস্ততম এলাকা সামলায়। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ গার্ডগুলিতে কর্মীসংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়ায় কার্যত ভেঙে পড়েছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। হাওড়া স্টেশন ট্রাফিক গার্ড থেকে ১০ জন আধিকারিক ও ৭ জন কনস্টেবলকে পাঠানো হয়েছে বালি ও মালিপাঁচঘড়ায় ভোটের ডিউটিতে। অন্যদিকে, হাওড়া ট্রাফিক গার্ডের ১৭ জন অফিসারের মধ্যে ১৫ জনই বর্তমানে ভোটের কাজে নিয়োজিত। ৪১ জন কনস্টেবলের প্রত্যেককেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে শহরের বহু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের কিয়স্ক ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়, অনুপস্থিত ছিলেন সিভিক ভলান্টিয়াররাও।
এই পরিস্থিতিতে যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ট্রাফিক বিভাগের এক কর্তার কথায়, ব্যস্ত রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং আহতকে হাসপাতালে পাঠানো ট্রাফিক পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু কর্মীর অভাবে সেই পরিষেবাও ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন একাধিক ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা সামলানোই যেখানে নিয়ম, সেখানে এই ঘাটতি বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, হাওড়া সদরের ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশন, আইআইইএসটি শিবপুর, বেলুড় হাই স্কুল ও সেন্ট টমাস স্কুলে তৈরি হয়েছে ডিসিআরসি কেন্দ্র। এখান থেকে ইভিএম বহনের জন্য কয়েকশো বাস চলাচল করবে। কিন্তু ট্রাফিক গার্ডে পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় এই অতিরিক্ত চাপ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ট্রাফিক কর্তারা। সব মিলিয়ে ভোটের আগে হাওড়ার ট্রাফিক পরিস্থিতি এখন কার্যত ‘নিধিরাম সর্দার’-এর অবস্থায় দাঁড়িয়ে।