• মেটিয়াবুরুজ: ওয়াজেদ আলির এলাকায় নিশ্চিত তৃণমূল, জামানত বাঁচানোই লক্ষ্য বিজেপি প্রার্থীর
    বর্তমান | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • সোমনাথ বসু, কলকাতা: সেই ১৯৭২ সালে মেটিয়াবুরুজে আসা। দেখতে দেখতে কেটে গেল ৫৪ বছর। সেদিনের কিশোর ইস্তিয়াক এখন প্রৌঢ়। মাথায় সাদা টুপি, পরনে হাফহাতা গেঞ্জি ও লুঙ্গি। লাল দাড়িতে হাত বুলিয়ে সিমপুকুর লেনের বাসিন্দা বলছিলেন, ‘নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের মতো আমিও লখনউ থেকে এসেছি। নানা ছিলেন রেকাবদার (নবাবদের জন্য রান্না করতেন যাঁরা, বাবুর্চি হল এদের পরের ধাপের রাঁধুনি)। তবে আমি বাবুর্চি। পার্ক স্ট্রিটের এক রেস্তরাঁয় কাজ করতাম। রিটায়ার করার পর এখন পরিবার নিয়ে এখানে সুখেই আছি। দিদির জমানায় কোনো অসুবিধা নেই। ভোট জোড়াফুলেই দেব। শুধু আমি নয়, এলাকার সব্বাই।’

    ঠিকই বলেছেন ইস্তিয়াক। কলকাতার এই বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থীর প্রধান লক্ষ্য জামানত বাজেয়াপ্ত এড়ানো। রাজ্যজুড়ে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহেরা যতই বোলচাল দিন না কেন, তার বিন্দুমাত্র প্রভাব ওয়াজেদ আলি শাহের এলাকায় নেই। তাই তো তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আবদুল খালেক মোল্লা জোর গলায় বলতে পারেন, ‘আমার কেন্দ্র নিয়ে ভাবছিই না। মা-মাটি-মানুষ আমাদের সঙ্গে। ২৫০টার বেশি সিট নিয়ে দিদি আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন।’ আর খালেক ভাইয়ের অনুরাগীদের বক্তব্য, ‘গতবার ১ লাখ ২০ হাজার ভোটে জিতেছিলাম আমরা। এবারও তেমন ব্যবধানেই জিতব।’

    মেটিয়াবুরুজ শব্দের অর্থ ‘মাটির ঢিপি’। আর এই মাটি তৃণমূলের দুর্জয় ঘাঁটি। ২০১১ বিধানসভা ভোটে এখানে জিতেছিলেন তৃণমূলের মমতাজ বেগম। তার পরের দু’বার আবদুল খালেক মোল্লা। তাঁর আমলে মিটেছে পানীয় জলের সমস্যা। গলি, তস্য গলি এখন আলোয় আলোকিত। বৃষ্টিতে জল জমলেও তার মেয়াদ কমেছে। এছাড়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী প্রকল্পের অ্যাডভান্টেজ তৃণমূলের সঙ্গে। এই বিধানসভার সিংহভাগ ভোটারই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এছাড়া রয়েছেন বেশি কিছু অবাঙালি ভোটারও। এখানে দ্বিতীয় হওয়ার লড়াই কংগ্রেসের মহম্মদ মোক্তার ও সিপিএমের মণিরুল ইসলামের মধ্যে। বিজেপির বীর বাহাদুর সিংয়ের প্রচারে হাতেগোনা কর্মী। মেটিয়াবুরুজ বিধানসভার মধ্যে রয়েছে মোট ১৫টি ওয়ার্ড (কলকাতা ও মহেশতলা মিলিয়ে)। প্রতিটি ওয়ার্ডই জোড়াফুলকে লিড দেওয়ার জন্য তৈরি। এক বাসিন্দা বলেই ফেললেন, ‘দিদিকে হারানোর জন্য বিজেপি কত শক্তি খরচ করছে। মোদি-শাহ পড়ে আছেন বাংলায়। এছাড়া নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআই তো রয়েইছে। কিন্তু উন্নয়নের জোয়ারে পদ্মফুল ভেসে যাবে। ৪ মে সবুজ আবিরে এখানকার পথ ভরে উঠবে।’

    এসআইআরের জন্য এই বিধানসভায় বাদ পড়েছে মোট ৭৭, ৬০৮ জনের নাম। অনেক পরিবারেরই দাবি, ‘বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও আমাদের নাম ভোটার লিস্টে নেই। নির্বাচন কমিশন তো বিজেপির দলদাস। এর উত্তর ইভিএমে পাবে ওরা।’ সবমিলিয়ে ভোটের প্রাক্কালে মেটিয়াবুরুজের রিংটোন, ‘যতই কর হামলা/জিতবে আবার বাংলা’।
  • Link to this news (বর্তমান)