• নর্দমার পাশে মায়ের পোস্টার! ফুঁসছে চন্দননগর, ‘জগদ্ধাত্রী’ আবেগ উসকে ভোট টানার মরিয়া চেষ্টা বিজেপির
    বর্তমান | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগর জগদ্ধাত্রীর ভূমি। সেই মাটিতে দেবীকে ব্যবহার করে ভোট প্রচারে নেমেছে বিজেপি। এমনকি দেবীর সঙ্গে পদ্মপ্রার্থী ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ব্যবহার করছে। আরাধ্য ঠাকুরকে রাজনীতির ময়দানে টেনে নামানোয় নাগরিকদের রোষানলে পড়েছে পদ্মপার্টি। শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত ক্ষোভ।

    কার্নিভাল বনাম জগদ্ধাত্রী পুজোর শোভাযাত্রা বিতর্ক উসকে দিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই পোস্টার লাগিয়েছে বিজেপি। কাঁটাপুকুর জগদ্ধাত্রী মায়ের মুখ ব্যবহার করেছে। এ নিয়ে ওই পুজো কমিটি যেমন সরব, তেমনই দেবী জগদ্ধাত্রীকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রে রে করে উঠেছে গোটা চন্দননগর। দেবীর সঙ্গে পদ্মপ্রার্থী ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল সমালোচনা। 

    চন্দননগরের অধিকাংশ মানুষের বক্তব্য, অতীতে কখনও ভোট ময়দানে কোনও দলই দেবীকে নিয়ে এই ধরনের প্রচার চালায়নি। বিষয়টি বিজেপির অন্দরে ঝড় তুলে দিয়েছে। চলছে বিস্তর ডামাডোল। চন্দননগর বিজেপির একাংশের বক্তব্য, ‘চন্দননগরের সংস্কৃতি না বুঝে রাজনীতির সস্তা খেলায় নেমেছে বিজেপি। এসব করতে গিয়ে দলকে ডুবিয়েছে নেতারা।’ বিজেপির জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মায়ের মুখ পোস্টারে দেওয়া হয় না, সেটা ঠিক নয়। তবে চন্দনগরের ক্ষোভের প্রকৃত কারণ জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’

    চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সভাপতি শ্যামলকুমার ঘোষ বলেন, ‘চন্দননগর তার প্রাণের দেবীকে কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে কখনও জড়ায়নি। পুজো ও শোভাযাত্রা নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেই বিশ্ববন্দিত হয়েছে। এবার যা করা হয়েছে তা অমার্জিত অপরাধ।’ সামাজিক মাধ্যমের দেওয়ালে মুনমুন সাঁতরা নামে একজন লিখেছেন, ‘চন্দননগরের ঐতিহ্য নিয়ে টানাটানি খুবই অনভিপ্রেত ঘটনা।’ একধাপ এগিয়ে সুপ্রিয় পাঠক নামে একজন লিখেছেন, ‘এসব অশিক্ষার নমুনা। তৃণমূল কংগ্রেস ১৫ বছরে যা করেনি সেটাই বিজেপি করে দেখাল। তীব্র প্রতিবাদ করছি। সকলে সমস্বরে প্রতিবাদ করুন।’ তৃণমূল নেতা ও চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি মর্মাহত। যাঁরা চন্দননগরের বাসিন্দা তাঁরা এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন না। ঐতিহ্যের অবমাননায় আমি  নাগরিকদের পাশেই থাকব।’ কাঁটাপুকুর সর্বজনীন পুজো কমিটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘ওই পোস্টার দেবীকে অবমাননা করেছে। বিনা অনুমতিতে কাঁটাপুকুরের দেবীর ছবি ব্যবহার হয়েছে। পোস্টারগুলি নিকাশি নালার ধারে ছড়িয়ে রয়েছে। এই অমর্যাদা মানা যায় না।’ সাধারণ মানুষের বক্তব্য, ‘পোস্টারগুলি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে। এ থেকে বড়ো আক্ষেপ কিছুই হতে পারে না।’ নাগরিকদের একাংশ এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। দেবীকে নিয়ে বিজেপির এই প্রচার সমগ্র চন্দননগরের আবেগের লাঞ্ছনা এবং জগদ্ধাত্রীর অপমান বলে মনে করছে ছোটো-বড়ো সবাই।
  • Link to this news (বর্তমান)