• ‘জনগণ বলছে তৃণমূলই জিতছে’, উত্তর কলকাতায় শেষ প্রচারে জোর স্লোগান কর্মী-সমর্থকদের
    বর্তমান | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • সুকান্ত বসু, কলকাতা: রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারপর্ব শেষ হয়ে গেল সোমবার। রাত পোহালেই ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ শুরু। কলকাতার অন্তর্গত কেন্দ্রগুলিতেও এই দফায় ভোট। টানা দেড় মাস ধরে চলা প্রচারের শেষবেলায় সার্বিক হালচাল আরও একবার স্পষ্ট করে দিল, ‘জনগণ বলছে, তৃণমূল জিতছে’! প্রচারের শেষ দিনে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন কেন্দ্রে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকের উচ্ছ্বাস, তাদের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নবীনদের শুভেচ্ছা, প্রবীণদের আশীর্বাদ যেভাবে দলীয় প্রার্থীদের উপর বর্ষিত হয়েছে, সর্বোপরি যেভাবে মানুষের সমর্থন ধাবিত হয়েছে বাংলার অগ্নিকন্যার দিকে, তাতেই তৃণমূলের জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

    এদিন মানিকতলা, কাশীপুর‑বেলগাছিয়া ও শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রে শেষবেলার প্রচারে ঝড় তোলে তৃণমূল। প্রতিটি মহল্লায় সুসজ্জিত অটোয় প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দেওয়া ব্যানার ঝুলয়ে স্লোগান সহকারে প্রচার চালাতে দেখা যায় তৃণমূলকে।  কোথাও আবার ঘাস‑ফুল আঁকা নানা রংয়ের বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছিল ট্যাবলো। ছিল তৃণমূল প্রার্থীর ঢাউস সাইজের কাটআউটও। আর ছিল প্রচার মিছিল জুড়ে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ‘যুবসাথী’র মতো রাজ্য সরকারি প্রকল্পগুলির সাফল্য ঘোষণা। 

    রবীন্দ্র সরণি, বাগবাজার, গিরিশ অ্যাভিনিউ, মদনমোহনতলা স্ট্রিট, শ্যামপুকুর, কাশীপুর, ঝিল রোড, রুস্তমজি ফার্সি রোড, খগেন চ্যাটার্জি স্ট্রিট, সৎচাষী পাড়া লেন, কাশীনাথ দত্ত রোড, রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিট, আর জি কর রোড সহ উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় এদিন এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছে। মানিকতলা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে বিশাল একটি মিছিল থেকে স্লোগান শোনা গেল, ‘জনগণ বলছে/তৃণমূল জিতছে’ বা ‘এলাকার মা‑বোনেরা বলছে/ তৃণমূল জিতছে।’ কাশীপুর বি টি রোডে তৃণমূলের একদল কর্মী‑সমর্থক প্রচার চালাচ্ছিলেন—‘বিজেপিকে একটি ভোটও দেবেন না’। এদিন সকাল থেকে রোদের তেজ কম থাকায় প্রচারের গতি কিছুটা হলেও বেড়েছে। আবহওয়া অনুকূল থাকায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ দেখা যায়। 

    তৃণমূল কর্মী তো বটেই, প্রচারে শামিল হওয়া সাধারণ মানুষও বলছেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কলকাতাজুড়ে যে উন্নয়ন হয়েছ, তা এক কথায় নজিরবিহীন। পানীয় জল থেকে রাস্তাঘাট, আলো— সব ক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তন এসেছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পার্ক এবং রাস্তার ধারে সৌন্দার্যায়ন হয়েছে। এতসব কাজের নিরিখেই মানুষ আশীর্বাদ করবে বলে মনে করছে আত্মবিশ্বাসী জোড়াফুল শিবির। প্রচারের শেষ লগ্নে বিজেপি, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, এসইউসি’র পক্ষ থেকেও অটো প্রচারে বাড়তি গুরুত্ব দিতে দেখা গিয়েছে। সব মিলিয়ে তিলোত্তমা কলকাতা ভোটমুখর।
  • Link to this news (বর্তমান)