‘ডন কো পাকাড়না মুশকিল’ হলেও, আইনের লম্বা হাতে এ বার এল দাউদের ‘খাস আদমি’ সেলিম ডোলা। দাউদ ইব্রাহিমের ড্রাগ র্যাকেটের মূল মাথা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী, কুখ্যাত মাদক পাচারকারী সেলিম ডোলাকে ভারতের হাতে তুলে দিল তুরস্ক। আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বড় পান্ডাকে মঙ্গলবার প্রত্যর্পণের পরে আনা হয়েছে ভারতে। মাদক পাচার চক্র খতম করতে সেলিমের গ্রেপ্তারি পুলিশ ও প্রশাসনের বড় সাফল্য।
সূত্রের খবর, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এজেন্সিগুলির যৌথ অভিযানে ইস্তানবুলে দাউদ ঘনিষ্ঠ সেলিম ডোলাকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার ভোরে একটি বিশেষ বিমানে চাপিয়ে দিল্লির টেকনিক্যাল বিমানবন্দরে আনা হয়। বিমানবন্দরে নামার পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে টানা জেরা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রাথমিক জেরার পরে তাকে মুম্বই পুলিশ বা নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)-এর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। এই প্রত্যর্পণকে ভারতের মাদকবিরোধী অভিযানে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ডোলা বিদেশে বসে ডি-কম্পানির মাদক ব্যবসার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত বলে অভিযোগ।
সেলিম মুম্বইয়ের বাইকুল্লা এলাকার বাসিন্দা। ছোটবেলায় যে গলিতে খেলা করে বেড়ে উঠেছেন দাউদ, সেই এলাকাতে যাতায়াত ছিল সেলিমেরও। প্রথমদিকে সে গুটখার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে ধীরে ধীরে মাদক পাচার জগতে পা পড়ে তার। তদন্তে জানা যায়, সে প্রথমে গাঁজার কারবার করত। ২০১২ সালে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে জেল থেকে বেরিয়ে সে সিন্থেটিক ড্রাগের ব্যবসায় নামে এবং ‘বাটন’ নামে পরিচিত ফেন্টানিল-ভিত্তিক বিপজ্জনক মাদক উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্ত হয়।
২০১৮ সালে মুম্বইয়ে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিল-সহ আবার গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে সে বিদেশে পালিয়ে যায়। এর পরে সংযুক্ত আরব আমিশাহী হয়ে তুরস্কে গিয়ে আত্মগোপন করে এবং সেখান থেকেই দাউদের আন্তর্জাতিক মাদকচক্র পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ। সেলিমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিস জারি ছিল। তুরস্কে গোয়েন্দারা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান চিহ্নিত করে এবং অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত এই মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দাউদ ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন ডি-কম্পানি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র পরিচালনা করে আসছে, যার একটি বড় অংশ মাদক পাচার। এই চক্র ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ-সহ একাধিক দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, সেলিমের মতো সহযোগীরাই বিদেশে বসে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত এবং ভারতে মাদক সরবরাহের রুট নিয়ন্ত্রণ করত।
সূত্র অনুযায়ী, সেলিমের নেটওয়ার্ক বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং বিভিন্ন দেশে গোপন ল্যাব ও কারখানার মাধ্যমে সিন্থেটিক ড্রাগ তৈরি ও পাচার করা হত। সম্প্রতি মুম্বইয়ে এই ড্রাগ পাচারকারীর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পরে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়, তাতেই স্পষ্ট এই মাদক ব্যবসায়ের নেটওয়ার্কের গভীরতা।