• ভোটের কড়াকড়িতে বন্ধ মদের দোকান, বিক্রি বেড়েছে তাড়ির
    এই সময় | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, গুসকরা: বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জারি হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে শহর থেকে গ্রাম সব জায়গাতেই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মদের দোকান। আর তার জেরে পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা ও সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে প্রাকৃতিক পানীয় তালরস বা তাড়ির চাহিদা।

    গুসকরা পুরসভার রায়পাড়া, মাঠপাড়া, লাইপাড়–সহ একাধিক এলাকায় প্রচুর তালগাছ রয়েছে। প্রতি বছর গরম পড়তেই শুরু হয় তালরস সংগ্রহের মরশুম। সূর্যাস্তের পরে গাছে হাঁড়ি বেঁধে দেওয়া হয়, আর ভোর হতেই সেই হাঁড়ি ভর্তি টলটলে মিষ্টি রস নামানো হয়। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই রসেই শুরু হয় স্বাভাবিক ফারমেন্টেশন, যা পরে তাড়িতে পরিণত হয়। সেই তাড়ি খেলে হয় হালকা নেশা।

    এ বার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। মদের দোকান বন্ধ থাকায় বহু মানুষ বিকল্প হিসেবে ভিড় জমাচ্ছেন তালগাছের নিচে। ভোর থেকে শুরু হচ্ছে বিক্রি, আর সকাল গড়াতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে মজুত। বিক্রেতাদের দাবি, সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ দোকান বসালেও এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যেই খালি হয়ে যাচ্ছে হাঁড়ি। দামের দিক থেকেও তালরস সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে, লিটার প্রতি ২০ টাকায় সহজলভ্য এই পানীয়। পুরোটাই প্রাকৃতিক এবং আইনি কোনও নিষেধাজ্ঞা না–থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। ফলে বহু দিনের এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় যুক্ত মানুষরাও এখন বাড়তি আয়ের মুখ দেখছেন।

    শুধু গুসকরা নয়। আউশগ্রাম, ভাতার, মঙ্গলকোট, গলসি–সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকেও মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন তালবাগানে। কেউ সেখানেই বসে আড্ডা দিতে দিতে পান করছেন, কেউ আবার বোতল বা পাত্রে ভরে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। সকালবেলায় তালতলাগুলো যেন ছোটখাটো আসরে পরিণত হচ্ছে। সুরাপ্রেমীদের একাংশের কথায়, ‘দোকান বন্ধ, তাই তালরসই এখন ভরসা। খরচ কম, আবার এটি তুলনামূলক ভাবে নিরাপদ বলেও ধারণা।’

    তবে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ভিন্ন কথা বলছে। তাঁদের মতে, ফারমেন্টেড তালরস বা তাড়িও এক ধরনের মদ্যজাতীয় পানীয়। এর অতিরিক্ত সেবন শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সতর্কবার্তা অনেকটাই চাপা পড়েছে চাহিদার জোয়ারে। ভোটের ড্রাই ডে-র এই অস্থায়ী সময়ে তাই গুসকরা-আউশগ্রাম অঞ্চলে তালরসই হয়ে উঠেছে বহু মানুষের ‘বিকল্প নেশা’, আর সেই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিও সাময়িক ভাবে চাঙা হয়ে উঠেছে তাড়ির হাত ধরে।

  • Link to this news (এই সময়)