• বেহালা থেকে ডানলপ—বাসের হাহাকার! ভোটের জন্য গাড়ি কমতেই ভোগান্তি চরমে
    এই সময় | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ‘বাসের দেখা নাই...’, রাস্তায় বেরিয়ে নিত্যযাত্রীরা এখন এই কথাই বলছেন। ভোটের বাজারে কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিপুল সংখ্যক বাস নির্বাচনের ডিউটিতে তুলে নেওয়ায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ গাড়ি চলছে শহরের রাস্তায়। সূত্রের খবর, কলকাতার মোট বাসের সংখ্যা কমবেশি সাড়ে তিন হাজার। তার মধ্যে কমবেশি ২,৪০০ বাস এখন নির্বাচনের ডিউটিতে ব্যস্ত। যার জেরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। সকালের দিকে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও যদিও বা ভিড়ে ঠাসা বাস মিলছে। কিন্তু সন্ধে হলেই বাসের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না কলকাতার রাস্তায়।

    ভোটের ডিউটির পাশাপাশি অনেক চালক ভোট দিতে বাড়ি চলে গিয়েছেন। যার জেরে সমস্যা আরও বেড়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, কলকাতার রাস্তায় বাস অমিল থাকতে পারে ৩০ মে পর্যন্ত। তবে প্রথম দফার ভোটের পরে দ্বিতীয় দফায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। বেহালা থেকে ডানলপ—সব জায়গাতেই বাসের জন্য হাহাকার।

    শহরের রাজপথ থেকে শুধু বাস নয় উধাও হয়ে গিয়েছে অ্যাপ ক্যাব, বাইক ট্যাক্সি, অটোরিকশা। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ভোটের কর্মীদের ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন বিপুল সংখ্যক গাড়ি রিকুইজ়িশন করেছে। স্কুলের পলকার ও ছোট বাসও রীতিমতো দখল করে নিয়েছে কমিশন। যার জেরে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ায় ক্যাব বুক করছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেই ক্যাবও ক্যানসেল হয়ে যাচ্ছে। চরম অব্যবস্থার কারণে নিত্যযাত্রীদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন কমিশনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বাস ইউনিয়নগুলো প্রতিটি রুটে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বাস চালু রাখার আবেদন করেছে।

    ভোটের কাজে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বাসের অভাবে চূড়ান্ত দুর্ভোগের শিকার সরকারি কর্মীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার হাওড়ামারি স্কুলের ডিসিআরসি-তে পৌঁছনোর জন্য দুর্গাপুর থেকে বাস ছাড়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় দুর্গাপুর সিটি সেন্টার বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসগুলি ছাড়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে তা আসেনি। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট, ইসিএল এবং ডিভিসি-র কয়েকশো কর্মী ভোরের আলো ফোটার আগেই স্ট্যান্ডে চলে আসেন। কিন্তু সাতটা বেজে গেলেও পর্যাপ্ত বাসের দেখা মেলেনি। যে কয়েকটি বাস এসেছে তাতে তিল ধারনের জায়গা নেই। আসন না মেলায় এবং কমিশনের আধিকারিকদের দেখা না পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভোট কর্মীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, বুথে পৌঁছতে বিকেল গড়িয়ে রাত হয়ে যাবে। ফলে খাওয়া-দাওয়া বা কাজের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পাওয়া কঠিন হবে।

    বাসের এক চালক সূর্য জয়সওয়াল বলেন, ‘আমার গন্তব্য ক্যানিং। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় বাস ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল সাতটায় বাস ছাড়ছি। পৌঁছতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যাবে।’ ভোটকর্মী জীবন দাস বলেন ‘পৌঁছতে বিকেল হয়ে যাবে। ডিসিআরসি-তে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কাজ ও কাগজপত্র বুঝে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে পৌঁছতে রাত হয়ে যাবে। বুথে গিয়ে কখন কাজ করব আর কখনই বা বিশ্রাম বা খাওয়া-দাওয়া করব।’

  • Link to this news (এই সময়)