আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনী মরশুমে রাজনৈতিক হিংসার বলি হলেন পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার এক যুবক। দাঁতনের বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে মিছিলে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার পর, দীর্ঘ লড়াই শেষে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মৃতের নাম নগেন গিরি। তিনি এগরা-১ ব্লকের বরিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় ও বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ এপ্রিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মোহনপুর সংলগ্ন অতলা বস্তি এলাকায় বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত একটি বাইক মিছিলে যোগ দিতে গিয়েছিলেন নগেন। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা অতর্কিতে ওই মিছিলের উপর হামলা চালায়। লাঠি, রড ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে চালানো এই আক্রমণে প্রার্থী-সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী জখম হন। নগেন গিরির মাথায় ও শরীরে গুরুতর চোট লাগে। আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
গত কয়েকদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। অবশেষে তাঁর মৃত্যু হয়। যুবকের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। নগেনের মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছলে বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। এগরার বিজেপি নেতৃত্ব এবং দলের কর্মীরা মৃত কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর মরদেহে মাল্যদান করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূল পরাজয়ের ভয়ে এই ধরণের হিংসাত্মক পথ বেছে নিচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় এক নেতা জানান, ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের বিন্দুমাত্র সংযোগ নেই। অন্যায়ভাবে তৃণমূলের দিকে আঙুল তোলা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
প্রসঙ্গত, প্রথম দফার পর থেকেই বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে রাজ্যে। গত শুক্রবার আসানসোলে এক কংগ্রেস কর্মীকে বেধড়ক পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রবিবার ভাঙড় বিধানসভায় উত্তর কাশীপুর থানার অন্তর্গত ছেলেগোয়ালিয়া এলাকায় ১০০টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়। সোমবার তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে জগদ্দলে। ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি থেকে শুরু করে গুলিচালনা, সব মিলিয়ে চরম আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে।