আজয়পাল এবং তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির, পুলিশ পর্যবেক্ষকের সামনেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের আগে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁকে সতর্ক করে গিয়েছিলেন পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা । ভোটারদের হুমকি বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন বার্তাই দিয়ে যান তিনি। এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয় ওই আধিকারিকের ভূমিকা ও এক্তিয়ার নিয়ে।
এর পরের দিন, মঙ্গলবার সকালে একই এলাকায় রুট মার্চে নামেন অজয় পাল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সম্ভাব্য অশান্তি সৃষ্টিকারীদের খোঁজখবর নেন। খানপাড়া এলাকায় তৃণমূল কার্যালয়ের পাশেই কিছু ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ করতে যান তিনি। ঠিক সেই সময় তাঁর কনভয় এলাকা ছাড়ার সময় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
অজয় পালের গাড়ি এগিয়ে গেলেও তাঁর কনভয়ের পিছনের দিকে কয়েকটি গাড়ি কিছু সময়ের জন্য আটকে পড়ে। এই সুযোগে স্লোগান আরও জোরালো হয়। ‘জয় বাংলা’ এবং ‘গো ব্যাক’ ধ্বনিতে সরব হয়ে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা। এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় জাহাঙ্গির খানকেও, যিনি আগের দিনের ঘটনার পর থেকেই সরব ছিলেন।
জাহাঙ্গিরের অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই এলাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মভূমি, তাই এখানকার মানুষকে সহজে ভয় দেখানো যাবে না।
অন্যদিকে, বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, পরিস্থিতি সঠিক না ভুল তা নির্বাচন কমিশনই বিচার করবে। তবে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হলে তারা নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ফলতা কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।