কেরলে ডেন্টার পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিচার চেযে ১২ ঘণ্টার বনধ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল কেরল। কান্নুরের এক ডেন্টাল কলেজের ছাত্র নীতিন রাজের অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রতিবাদে মঙ্গলবার ১২ ঘণ্টার বনধ ডেকেছে ৫২টি দলিত সংগঠন। ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই বনধের জেরে গোটা রাজ্যে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে জরুরি পরিষেবা এবং দুই চাকার যানবাহনকে এই বনধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। বহু জায়গায় গাড়ি চলাচল আটকে দেওয়া হয় এবং কিছু এলাকায় জোর করে দোকানপাট বন্ধ করানোর অভিযোগও উঠে আসে। রাজধানী তিরুবনন্তপুরম এবং কান্নুর-সহ একাধিক এলাকায় যান চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার সূত্রপাত ১০ এপ্রিল। সেদিন কলেজের একটি ভবন থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন নিতিন রাজ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, গায়ের রং ও জাতিগত পরিচয় নিয়ে তাঁকে নিয়মিত হেনস্থা করা হত। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং তফশিলি জাতি-উপজাতি আইনে মামলা দায়ের করেছে।
তবে তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মৃতের পরিবার। তাদের অভিযোগ, পুলিশ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে না এবং গাফিলতি করছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখেই রাজ্যের দলিত সংগঠনগুলি একজোট হয়ে বনধের ডাক দেয়। তাদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষকদের রক্ষা করার চেষ্টা চলছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্ত বিলম্বিত করা হচ্ছে, যাতে তারা সহজেই জামিন পেয়ে যায়।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বর্তমান তদন্তে তাদের কোনও আস্থা নেই। তাই তারা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে কেরালার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।