কোনওটার উপর জোড়াফুল, কোনওটায় আবার পদ্ম, কোনওটার আবার উপর কাস্তে-হাতুড়ি-তারা। মুখে দিলেই একগাল হাসি। তা বলে রাজনৈতিক দলের প্রতীক আবার খাওয়া যায় নাকি! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। অন্যান্য বছরের নির্বাচনের মতো এবছরও বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে হাওড়া শিবপুরের ব্যাতাইতলায় একটি প্রখ্যাত মিষ্টির দোকান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীক চিহ্ন আঁকা মিষ্টি তৈরি করেছে। ভোটের আবহে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বাঙালির সৌহার্দ্য ও সংস্কৃতির বার্তা বয়ে নিয়ে আসছে সেই মিষ্টি। প্রতীক চিহ্ন আঁকা মিষ্টি কখনও দলের কর্মী-সমর্থকরা নেতাদের খুশি করতে তাঁদের দিচ্ছেন।
আবার কখনও একই পরিবারে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও কর্মীরা ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ কমাতে তাঁদের দলের প্রতীক চিহ্ন আঁকা মিষ্টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিলি করছেন। নিছকই সৌজন্য ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে বা কিছুটা প্রচারের কৌশল হিসাবেও উঠে আসছে এই রাজনৈতিক মিষ্টি। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ওই মিষ্টির দোকানে দেদার বিক্রি হচ্ছে ভোটের মিষ্টি। মূলত তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস এই চার দলের প্রতীক চিহ্ন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ক্ষীরের সন্দেশ। এই ক্ষীরের সন্দেশগুলির একেকটির দাম করা হয়েছে ১০০ টাকা।
কোনও সন্দেশের উপর ক্ষীর ও রং দিয়ে আঁকা হয়েছে জোড়া ফুল। কোনওটার উপর পদ্মফুল, কোনওটা কাস্তে-হাতুড়ি-তারা, তো কোনওটার উপর আঁকা হয়েছে হাতচিহ্ন। ব্যাতাইতলার ওই মিষ্টির দোকানের মালিক সৈকত পাল বললেন, “২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীক চিহ্ন দিয়ে মিষ্টি বানাচ্ছি। এই রাজনৈতিক দলের প্রতীক চিহ্ন আঁকা মিষ্টির চাহিদা খুব। সাধারণ মানুষ এই ধরনের মিষ্টি খুব পছন্দ করছেন ও তাঁরা এই মিষ্টি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। চারটে দলের প্রতীক চিহ্নের মিষ্টির চাহিদাই রয়েছে। ১৫ দিন আগে থেকেই এই মিষ্টি তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে।”
সৈকতবাবুর আরও জানান, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চারটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরাই তাঁদের নেতাদের দলের প্রতীক চিহ্ন আঁকা মিষ্টি উপহার দেওয়ার জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এমনকী নেতারাও তাঁর দোকান থেকে দলীয় প্রতীক চিহ্ন আঁকা মিষ্টি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি। এবছর বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়া সদরে দাঁড়ানো অনেক রাজনৈতিক দলের প্রার্থীই এই দোকান থেকে এসে নিজের দলীয় প্রতীক চিহ্নের মিষ্টি কিনেছে। শুধু ব্যাতাইতলাতেই নয়, এই মিষ্টির দোকানের আরও দু’টি শাখা হাওড়া ময়দান ও পোদরায় দেদার বিকোচ্ছে এই রাজনৈতিক মিষ্টি।