‘কমিশনের টার্গেট ভবানীপুর’, ‘ঝামেলাবাজ’দের নাম প্রকাশ মামলায় আদালতে দাবি কল্যাণের
প্রতিদিন | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
আদালতের নির্দেশের পরেও ৩৫০ জন তৃণমূল কর্মীর তালিকা প্রকাশ করে পদক্ষেপ নিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। আদালত অবমাননার অভিযোগে ফের একবার কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। মঙ্গলবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির শুনানি হয়। কল্যাণের অভিযোগ, ভবানীপুর বিধানসভাকে টার্গেট করে কাজ করছে কমিশন এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক। প্রার্থী ও ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কালীঘাট থানার ওসি তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও শুনানিতে অভিযোগ করেন কল্যাণ। আগামী ২৯ তারিখ ভোটের (Bengal Election 2026) দিন পর্যন্ত কাউকে যেন ডাকা না হয় সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এরকম বিজ্ঞপ্তি আর জারি করা না হয় সেই আহ্বানও জানান। এজলাসে সব পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছে ডিভিশন বেঞ্চ।
আগে থেকে ট্রাবল মেকার বা অশান্তি সৃষ্টিকারীদের তালিকা প্রকাশ করে পদক্ষেপ গ্রহণ সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল, কেউ বেআইনি কাজ না করলে আগ বাড়িয়ে অতিসক্রিয়তা দেখানো যাবে না। আদালতের এই নির্দেশের পরেই প্রায় ৮০০ জন ট্রাবল মেকার্সকে নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তি নির্বাচন কমিশন জারি করেছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি ফের ৩৫০ জনের তালিকা প্রকাশ করে পদক্ষেপ নিতে বলেছে কমিশন। এই ঘটনায় কমিশন আদালত অবমাননা করেছে বলে ফের কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি শুনানি হয়। নির্বাচন কমিশন জানান, ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই নিয়ে কল্যাণের সওয়াল, বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হয়েছে কিন্তু কমিশনের মানসিকতার কি পরিবর্তন হয়েছে? কমিশন কীভাবে দাবি করে যে তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করছে? ভবানীপুর বিধানসভাকে টার্গেট করে কাজ করছে কমিশন এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক।
বিচারপতি পার্থ সারথি সেন কল্যাণকে প্রশ্ন করেন, বিজ্ঞপ্তি তো প্রত্যাহার হয়ে গিয়েছে, এখন আদালতের কাছে কি চাইছেন? তার জবাবে কল্যাণের প্রশ্ন, “পুলিশের তৈরি করা ভয়ের পরিবেশে মানুষ ভোট দেবেন? গতকাল কালীঘাট থানার ওসি আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। আমি চার বারের নির্বাচিত সাংসদ। আমি পরিচিত আইনজীবী। প্রোটোকল অনুযায়ী আমাকে দেখে দাঁড়িয়ে কথা বলা উচিত। তিনি চেয়ারে বসে আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন যে, কেন এসেছেন এখানে? আর তিন-চার মিনিট ওখানে থাকলে আমাকে হয়তো মারা হতো। কাল রাত ৯ টায় ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে সিআরপিএফ গিয়েছিল।”
পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে নিয়েও আদালতে মন্তব্য করেন কল্যাণ। তিনি বলেন, ‘অজয় পাল শর্মা বলছেন আমি সিংঘম। আমি এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট। এটা নির্বাচন? তিনি যেন ভোটারদের কাছে না যান।” বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে অফিসার নিয়ে এসে নির্বাচন করানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও মিতালী বাগকে আক্রমণ করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ। পুলিশ পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন কমিশনের কোন এসওপি মেনে কাজ করছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। আদালতে তাঁর দাবি, “শ্রীরামপুরের বিজেপি প্রার্থীকে গতকাল রাতে লক্ষ লক্ষ টাকা-সহ গ্রামবাসীরা ধরেছেন। তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হল না?”
নির্বাচন কমিশনের তরফে আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী বলেন, “আইন মেনে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে আমাদের আদালত বারণ করেনি। যাদের নাম এখানে আছে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। আদালত চাইলে আমরা পেশ করব।”